জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির এই মাসে দেশে হানাহানি ও সংঘাতের দৃশ্য কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘জুলাই কালচারাল ফেস্ট’-এর প্রথম দিনের আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। চবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিগত এক বছর একটি অভিন্ন দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে গিয়েছি এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছি। কিন্তু আজ কেন আমরা একে অপরের ওপর হামলা করছি? এমন দৃশ্য আমরা বাংলাদেশে দেখতে চাই না। আসুন, সবাই নিজ নিজ দায়িত্বের প্রতি সচেতন হই।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “যে জাতি তার বীরদের রক্তের মূল্যায়ন করে না, সে দেশে আর বীরের জন্ম হয় না। আমরা যদি শহীদদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা পালন না করি, তাহলে আসহাবুল ইয়ামিন, আবু সাঈদ, মুগ্ধদের মতো মানুষ আর আমাদের রক্ষায় জীবন দিতে এগিয়ে আসবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, জুলাইয়ের প্রতিটি শহীদের আত্মত্যাগ ও রক্তের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিতে হবে।
সাবেক এই প্রসিকিউটর আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যা পরিচালনায় যেসব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে বিগত সরকার ব্যবহার করেছিল, সেগুলোর অবশ্যই সংস্কার প্রয়োজন। তিনি পুলিশ বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও আমলাতন্ত্রকে তৎকালীন সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপরাধের হাতিয়ারে পরিণত করার অভিযোগ আনেন এবং এসব প্রতিষ্ঠানে কার্যকর সংস্কারের ওপর জোর দেন।
চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেস মাতুব্বরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম এবং রাবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমানসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 





















