মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তায় জুলাই সনদ: তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামোর সংস্কার ভাবনা

বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদী দলীয়করণের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যে সংস্কার ভাবনা শুরু হয়েছিল, তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে ‘জুলাই সনদ’। এই সনদে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে অস্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা ও আস্থার সংকট ছিল, তা নিরসনেই এই নতুন উদ্যোগ।

স্মরণ করা যেতে পারে, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময় প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি নিয়ে আওয়ামী লীগ তীব্র আন্দোলনে নেমেছিল, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে ওয়ান-ইলেভেনের সামরিক সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসে। সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জুলাই সনদে এমন এক বাছাই প্রক্রিয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে কোনো একক দল বা সরকার তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে না।

প্রস্তাবিত এই পদ্ধতিতে ক্ষমতাসীন সরকার, প্রধান বিরোধী দল এবং সংসদের দ্বিতীয় প্রধান বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি সম্মিলিত বাছাই কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত হবেন। এর ফলে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাপুরে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম: জনরোষের মুখে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নিল ঠিকাদার

সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তায় জুলাই সনদ: তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামোর সংস্কার ভাবনা

আপডেট সময় : ০৭:০১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদী দলীয়করণের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যে সংস্কার ভাবনা শুরু হয়েছিল, তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে ‘জুলাই সনদ’। এই সনদে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে অস্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা ও আস্থার সংকট ছিল, তা নিরসনেই এই নতুন উদ্যোগ।

স্মরণ করা যেতে পারে, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময় প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি নিয়ে আওয়ামী লীগ তীব্র আন্দোলনে নেমেছিল, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে ওয়ান-ইলেভেনের সামরিক সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসে। সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জুলাই সনদে এমন এক বাছাই প্রক্রিয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে কোনো একক দল বা সরকার তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে না।

প্রস্তাবিত এই পদ্ধতিতে ক্ষমতাসীন সরকার, প্রধান বিরোধী দল এবং সংসদের দ্বিতীয় প্রধান বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি সম্মিলিত বাছাই কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত হবেন। এর ফলে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।