সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যে অবশেষে ইরানের বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক দিন আগেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে, বিভিন্ন কৌশলগত কূটনৈতিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।
ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে দেখা যায়, হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন রুট ব্যবহারের অভিযোগে ইরান কয়েকটি জাহাজে হামলা চালালে, তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ৮ জুলাই থেকে ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করেন। এরপর, ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা হিসেবে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, জর্ডান ও কাতারে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং হরমুজ প্রণালির জাহাজে আঘাত হানে। এসব হামলায় জর্ডান ও ইরাকে চারজন মার্কিন সেনা নিহত হন।
যুদ্ধের নতুন অধ্যায় উন্মোচন করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ২০ জুলাই লোহিতসাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়। টানা ১৩ রাত ব্যাপক বিমান হামলার পর ২৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করে। ট্রাম্প তখন দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘ভালো আলোচনা’ চলছে।
২৮ জুলাই হোয়াইট হাউসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর, ৩১ জুলাই ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, ইরান চাপ সহ্য করতে না পারা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর আঘাত’ অব্যাহত রাখবে। মার্কিন গণমাধ্যমেও খবর আসে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে ভয়াবহ বোমাহামলার পরিকল্পনা করছে।
এরই মধ্যে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ১ আগস্ট সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপ করেন। এতে ওয়াশিংটন বা ইসরাইলের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘অনুপাতিক ও প্রমাণিত জবাব’ দেওয়ার হুমকি দেয় তেহরান। এই পরিস্থিতিতে, ইরানের অনড় অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতার মুখে ট্রাম্প হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।
রিপোর্টারের নাম 






















