মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি ইরানের: বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন সংকট

যুক্তরাষ্ট্র যদি তার সামরিক হুমকি ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখে, তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের কড়াকড়ি আরো বাড়ানো হবে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সামুদ্রিক প্রণালি ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাগের জোলগাদর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সতর্ক করে বলেন, ‘মার্কিন সরকারের নৌ অবরোধ ও যুদ্ধংদেহি মনোভাব অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধের কড়াকড়ি আরো বাড়াবে ইরান। সেই সঙ্গে অন্যান্য কৌশলগত প্রণালি ও নৌপথগুলোও অবরুদ্ধ করা হবে।’ তিনি আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ হওয়ার খেসারত দিতে হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোটারদেরও।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমন্বিত সামরিক অভিযান শুরু করার পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বজুড়ে মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে পরিবাহিত হতো। টানা পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত লোহিত সাগরেও অবরোধ জারি করেছে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের এই সামুদ্রিক অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে। গত জুন মাসেও সৌদি আরব লোহিত সাগর পথ দিয়ে দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রপ্তানি করেছিল, যা এখন অনেকটাই থমকে গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় র‍্যাবের কথিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক দল, মিলল নির্যাতন কক্ষের আলামত

হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি ইরানের: বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন সংকট

আপডেট সময় : ১০:২৮:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র যদি তার সামরিক হুমকি ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখে, তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের কড়াকড়ি আরো বাড়ানো হবে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সামুদ্রিক প্রণালি ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাগের জোলগাদর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সতর্ক করে বলেন, ‘মার্কিন সরকারের নৌ অবরোধ ও যুদ্ধংদেহি মনোভাব অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধের কড়াকড়ি আরো বাড়াবে ইরান। সেই সঙ্গে অন্যান্য কৌশলগত প্রণালি ও নৌপথগুলোও অবরুদ্ধ করা হবে।’ তিনি আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ হওয়ার খেসারত দিতে হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোটারদেরও।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমন্বিত সামরিক অভিযান শুরু করার পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বজুড়ে মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে পরিবাহিত হতো। টানা পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত লোহিত সাগরেও অবরোধ জারি করেছে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের এই সামুদ্রিক অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে। গত জুন মাসেও সৌদি আরব লোহিত সাগর পথ দিয়ে দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রপ্তানি করেছিল, যা এখন অনেকটাই থমকে গেছে।