মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

উত্তরায় র‍্যাবের কথিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক দল, মিলল নির্যাতন কক্ষের আলামত

ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য, তদন্তে পাওয়া চাঞ্চল্যকর আলামত এবং ঘটনাস্থলের বাস্তব ভৌগোলিক অবস্থার মধ্যে মিল রয়েছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করতে উত্তরা অবস্থিত র‍্যাব-১ সদরদপ্তরের কথিত ‘আয়নাঘর’ বা টিএফআই সেল বিচারিকভাবে পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকমণ্ডলী। শনিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারক দল এই পরিদর্শনে অংশ নেন। একই মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে অবস্থিত ডিজিএফআই কার্যালয়ের আরেকটি কথিত ‘গোপন বন্দিশালা’ পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রসিকিউশন দল জানিয়েছে।

পরিদর্শনকালে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম ভুক্তভোগীদের দেওয়া পূর্বের বিবরণ অনুযায়ী বিচারকদের আনুমানিক আড়াই ফুট বাই তিন ফুট আকারের কয়েকটি অত্যন্ত সংকীর্ণ ‘ডেথ সেল’ ঘুরিয়ে দেখান। এসব সেলে কোনো মানুষের সোজা হয়ে শোয়ার ন্যূনতম সুযোগ ছিল না এবং একই ঘরের ভেতর কোনো দেয়াল ছাড়া আড়াই ফুট বাই এক ফুটের টয়লেট সংযুক্ত রাখা হয়েছিল। এছাড়া দোতলা ভবনটিতে মোট ২৯টি কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, যার দ্বিতীয় তলায় সাউন্ডপ্রুফ (শব্দনিরোধক) জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ এবং বন্দিদের ওপরে ঝুলিয়ে নির্যাতনের উদ্দেশ্যে ছাদের সঙ্গে যুক্ত লোহার বড় বড় হুক ও বেল্ট আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটির দেয়াল তুলে এবং ময়লা-আবর্জনা জমিয়ে আলামত গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে দেয়াল অপসারণ করে ৬-৭টি ডেথ সেলসহ মোট ২৯টি কক্ষের সন্ধান মেলে। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন জানান, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের পর থেকেই এই কক্ষগুলো বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুম ও জিজ্ঞাসাবাদের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

অন্যদিকে অভিযুক্ত র‍্যাব কর্মকর্তাদের আইনজীবীরা দাবি করেন, টিএফআই কোনো নির্দিষ্ট নিষিদ্ধ ভবন নয় বরং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি টাস্কফোর্স এবং আসামিদের নির্দিষ্ট সময়েই আদালতে সোপর্দ করা হতো। কাউকে নির্ধারিত সময়ে আদালতে সোপর্দ না করা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হতে পারে, তবে তা মানবতাবিরোধী অপরাধ নয় বলে যুক্তি দেন তারা। উল্লেখ্য, র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে বর্তমান ও সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আইনি বিচার প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

এসইউবি-তে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের উদ্বোধন, স্বাস্থ্যসেবায় গবেষণার গুরুত্বারোপ

উত্তরায় র‍্যাবের কথিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক দল, মিলল নির্যাতন কক্ষের আলামত

আপডেট সময় : ১২:৫৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য, তদন্তে পাওয়া চাঞ্চল্যকর আলামত এবং ঘটনাস্থলের বাস্তব ভৌগোলিক অবস্থার মধ্যে মিল রয়েছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করতে উত্তরা অবস্থিত র‍্যাব-১ সদরদপ্তরের কথিত ‘আয়নাঘর’ বা টিএফআই সেল বিচারিকভাবে পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকমণ্ডলী। শনিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারক দল এই পরিদর্শনে অংশ নেন। একই মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে অবস্থিত ডিজিএফআই কার্যালয়ের আরেকটি কথিত ‘গোপন বন্দিশালা’ পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রসিকিউশন দল জানিয়েছে।

পরিদর্শনকালে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম ভুক্তভোগীদের দেওয়া পূর্বের বিবরণ অনুযায়ী বিচারকদের আনুমানিক আড়াই ফুট বাই তিন ফুট আকারের কয়েকটি অত্যন্ত সংকীর্ণ ‘ডেথ সেল’ ঘুরিয়ে দেখান। এসব সেলে কোনো মানুষের সোজা হয়ে শোয়ার ন্যূনতম সুযোগ ছিল না এবং একই ঘরের ভেতর কোনো দেয়াল ছাড়া আড়াই ফুট বাই এক ফুটের টয়লেট সংযুক্ত রাখা হয়েছিল। এছাড়া দোতলা ভবনটিতে মোট ২৯টি কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, যার দ্বিতীয় তলায় সাউন্ডপ্রুফ (শব্দনিরোধক) জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ এবং বন্দিদের ওপরে ঝুলিয়ে নির্যাতনের উদ্দেশ্যে ছাদের সঙ্গে যুক্ত লোহার বড় বড় হুক ও বেল্ট আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটির দেয়াল তুলে এবং ময়লা-আবর্জনা জমিয়ে আলামত গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে দেয়াল অপসারণ করে ৬-৭টি ডেথ সেলসহ মোট ২৯টি কক্ষের সন্ধান মেলে। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন জানান, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের পর থেকেই এই কক্ষগুলো বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুম ও জিজ্ঞাসাবাদের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

অন্যদিকে অভিযুক্ত র‍্যাব কর্মকর্তাদের আইনজীবীরা দাবি করেন, টিএফআই কোনো নির্দিষ্ট নিষিদ্ধ ভবন নয় বরং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি টাস্কফোর্স এবং আসামিদের নির্দিষ্ট সময়েই আদালতে সোপর্দ করা হতো। কাউকে নির্ধারিত সময়ে আদালতে সোপর্দ না করা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হতে পারে, তবে তা মানবতাবিরোধী অপরাধ নয় বলে যুক্তি দেন তারা। উল্লেখ্য, র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে বর্তমান ও সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আইনি বিচার প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।