মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

আমেরিকার যেকোনো হামলায় পাল্টা জবাবে তেহরানের জ্বালানি ও গ্যাসক্ষেত্রে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ‘বেপরোয়া’ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরান কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী যদি মার্কিন বাহিনী ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, তাহলে তার চরম ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।

শনিবার তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কুয়েতের সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা ইরানের দিক থেকে ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইরান তাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে আলোচনায় আব্বাস আরাগচি জানান, যেকোনো বহিরাগত আগ্রাসনের মুখে ইরান দৃঢ় ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। তিনি তার টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের’ কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

পরবর্তীতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আলাপে আরাগচি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কোনো হামলা অথবা সেই সামরিক পদক্ষেপে আঞ্চলিক অন্য কোনো দেশ যদি অংশ নেয়, তবে ইরান তাদের সবার ওপরই ‘সমান মাত্রায় প্রতিশোধমূলক হামলা’ চালাবে।

অন্যদিকে, শনিবারই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি ফোনালাপ করেন। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুবরাজ ট্রাম্পের কাছে ইরান-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে গভীর ‘উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান’।

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা নূরনিউজ এক প্রতিবেদনে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাহলে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলক্ষেত্রে এবং কাতার ও ইসরাইলের গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুতা-মোজা থাকবে দুর্গন্ধমুক্ত: রইলো কার্যকর টিপস

আমেরিকার যেকোনো হামলায় পাল্টা জবাবে তেহরানের জ্বালানি ও গ্যাসক্ষেত্রে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ১২:৫২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ‘বেপরোয়া’ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরান কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী যদি মার্কিন বাহিনী ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, তাহলে তার চরম ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।

শনিবার তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কুয়েতের সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা ইরানের দিক থেকে ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইরান তাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে আলোচনায় আব্বাস আরাগচি জানান, যেকোনো বহিরাগত আগ্রাসনের মুখে ইরান দৃঢ় ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। তিনি তার টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের’ কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

পরবর্তীতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আলাপে আরাগচি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কোনো হামলা অথবা সেই সামরিক পদক্ষেপে আঞ্চলিক অন্য কোনো দেশ যদি অংশ নেয়, তবে ইরান তাদের সবার ওপরই ‘সমান মাত্রায় প্রতিশোধমূলক হামলা’ চালাবে।

অন্যদিকে, শনিবারই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি ফোনালাপ করেন। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুবরাজ ট্রাম্পের কাছে ইরান-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে গভীর ‘উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান’।

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা নূরনিউজ এক প্রতিবেদনে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাহলে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলক্ষেত্রে এবং কাতার ও ইসরাইলের গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালাবে।