মহাকাশে দীর্ঘ সময় ধরে পরিভ্রমণ করা স্পেসএক্সের একটি নিষ্ক্রিয় রকেটের উপরের অংশ আগামী মাসে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে চলেছে। ঘণ্টায় প্রায় আট হাজার ৭০০ কিলোমিটার গতিতে ফ্যালকন-৯ রকেটের এই অংশটি চাঁদে আঘাত হানবে, যা শব্দের গতির প্রায় সাতগুণ। এর ফলে চাঁদে একটি বড় গর্ত তৈরির পাশাপাশি মহাকাশে বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়বে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য পর্যবেক্ষণের এক বিরল সুযোগ তৈরি করবে।
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ৫ আগস্ট স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে রকেটটির চাঁদে আঘাত হানার কথা রয়েছে। যথেষ্ট শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই ঐতিহাসিক ঘটনা দেখার সুযোগ মিলতে পারে। এর আগে চাঁদের সূর্যালোকিত অংশে কোনো মহাজাগতিক বস্তুর আঘাতের দৃশ্য পৃথিবী থেকে রেকর্ড করা হয়নি।
গবেষকদের ধারণা, রকেটটির খোলস ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে এবং প্রায় ১৮৩ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ধুলার পর্দা তৈরি হতে পারে। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী লরেন্স ট্র্যাফটন বলছেন, ধুলার মেঘ চাঁদের কিনারা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে গেলে ছোট আকারের টেলিস্কোপেও তা শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে, যদিও চাঁদের নিজের উজ্জ্বল আলো একটি বাধা হতে পারে।
এই সংঘর্ষের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব অপরিসীম। অতীতেও চাঁদের মাটি ও অভ্যন্তর সম্পর্কে জানার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে মহাকাশযান চাঁদে আছড়ে ফেলা হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে নাসার লুনার প্রসপেক্টর চাঁদে আঘাত করে পানির সন্ধান করার চেষ্টা করেছিল। ২০০৯ সালে আরেকটি অভিযানে চাঁদে আঘাত হানা একটি রকেটের ওড়ানো ধুলার মেঘে পানির বরফের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ২০২২ সালেও একটি পরিত্যক্ত রকেট চাঁদে আঘাত করেছিল, যা প্রথমে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ বলে ধারণা করা হলেও পরে চীনের একটি রকেট বলে জানা যায়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করতে পারে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নাসা আবার চাঁদে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে এবং দীর্ঘমেয়াদে সেখানে ঘাঁটি স্থাপনের লক্ষ্যও রয়েছে। একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে চীনও।
রিপোর্টারের নাম 























