মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

বর্ষায় সবজির চড়া দামে নিম্ন আয়ের মানুষ দিশাহারা

সারা দেশে ক্রমাগত বর্ষণে সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সবজির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সবজির সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। উপজেলার আমিরাবাদ বটতলী কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, বেগুন ১২০, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০, শসা ১৩০, পটোল ৮০, টমেটো ১২০, কাঁকরোল ৮০ এবং কাঁচামরিচ প্রায় ২০০ টাকা দরে। অথচ বন্যার আগে এসব সবজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যেত। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

সাম্প্রতিক টানা ১০ দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের সবজি ক্ষেত প্লাবিত হয়। এতে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বন্যায় কৃষিজমি, সবজি ক্ষেত, মাছের খামার ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় উপজেলার ৯ হাজার ৪০০ কৃষকের ১৫০ হেক্টর শস্যক্ষেত, ৫ হেক্টর পান ও ৩৬০ হেক্টর আউশ, আমনের বীজতলায় বন্যার পানি ঢুকে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা। বন্যায় স্থানীয় সবজি ক্ষেত তলিয়ে সবজির উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায়, প্রতিদিন সবজির দাম বাড়ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, উপজেলার সবজির চাহিদা মেটাতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, ফেনী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে পরিবহনে করে সবজি আনা হচ্ছে, যা দাম বাড়ার আরেকটি কারণ।

কৃষক জসিম উদ্দীন বলেন, বন্যার পানিতে তার ৫ লাখ টাকার সবজি ক্ষেত ডুবে যায়। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে ঋণের বোঝা টানবেন, সেই চিন্তায় তিনি দিন কাটাচ্ছেন। ক্রেতা সালাহ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, যেভাবে সবজির দাম বেড়েই চলেছে, তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ খুবই অসহায় হয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাইভেট সেক্টরে যাচ্ছে কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশন, পর্যটন হাব করার পরিকল্পনা সরকারের

বর্ষায় সবজির চড়া দামে নিম্ন আয়ের মানুষ দিশাহারা

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

সারা দেশে ক্রমাগত বর্ষণে সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সবজির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সবজির সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। উপজেলার আমিরাবাদ বটতলী কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, বেগুন ১২০, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০, শসা ১৩০, পটোল ৮০, টমেটো ১২০, কাঁকরোল ৮০ এবং কাঁচামরিচ প্রায় ২০০ টাকা দরে। অথচ বন্যার আগে এসব সবজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যেত। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

সাম্প্রতিক টানা ১০ দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের সবজি ক্ষেত প্লাবিত হয়। এতে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বন্যায় কৃষিজমি, সবজি ক্ষেত, মাছের খামার ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় উপজেলার ৯ হাজার ৪০০ কৃষকের ১৫০ হেক্টর শস্যক্ষেত, ৫ হেক্টর পান ও ৩৬০ হেক্টর আউশ, আমনের বীজতলায় বন্যার পানি ঢুকে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা। বন্যায় স্থানীয় সবজি ক্ষেত তলিয়ে সবজির উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায়, প্রতিদিন সবজির দাম বাড়ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, উপজেলার সবজির চাহিদা মেটাতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, ফেনী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে পরিবহনে করে সবজি আনা হচ্ছে, যা দাম বাড়ার আরেকটি কারণ।

কৃষক জসিম উদ্দীন বলেন, বন্যার পানিতে তার ৫ লাখ টাকার সবজি ক্ষেত ডুবে যায়। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে ঋণের বোঝা টানবেন, সেই চিন্তায় তিনি দিন কাটাচ্ছেন। ক্রেতা সালাহ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, যেভাবে সবজির দাম বেড়েই চলেছে, তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ খুবই অসহায় হয়ে পড়েছে।