ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

জর্ডানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিশিষ্ট নাগরিকদের আহ্বান

জর্ডানের ১৩০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট নাগরিক, যাদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শ্রমিক নেতা এবং উপজাতীয় প্রতিনিধিরা রয়েছেন, তারা দেশটির সরকারের কাছে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতা চুক্তি বাতিল বা অন্তত বিধিনিষেধ আরোপ করার দাবি জানিয়েছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডান কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধের অংশীদার নয়। তাই দেশটির ভূখণ্ডকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বা আঞ্চলিক সংঘাতের ময়দান হিসেবে ব্যবহার করা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাক্ষরকারীরা মনে করেন, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বিদেশি সেনা উপস্থিতি জর্ডানকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

তারা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিটি দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। প্রয়োজনে চুক্তিটি বাতিল অথবা এমনভাবে সংশোধন করা উচিত, যাতে জর্ডানের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং জাতীয় স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত থাকে।

এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে জর্ডানে বিদেশি সেনা মোতায়েন নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে জনমত আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

তবে জর্ডান সরকার পূর্বে জানিয়েছিল যে, দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে কাজ করছে এবং এই উপস্থিতি জর্ডানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানবন্দরে নতুন সংস্কৃতি: যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ

জর্ডানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিশিষ্ট নাগরিকদের আহ্বান

আপডেট সময় : ০৪:২৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

জর্ডানের ১৩০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট নাগরিক, যাদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শ্রমিক নেতা এবং উপজাতীয় প্রতিনিধিরা রয়েছেন, তারা দেশটির সরকারের কাছে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতা চুক্তি বাতিল বা অন্তত বিধিনিষেধ আরোপ করার দাবি জানিয়েছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডান কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধের অংশীদার নয়। তাই দেশটির ভূখণ্ডকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বা আঞ্চলিক সংঘাতের ময়দান হিসেবে ব্যবহার করা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাক্ষরকারীরা মনে করেন, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বিদেশি সেনা উপস্থিতি জর্ডানকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

তারা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিটি দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। প্রয়োজনে চুক্তিটি বাতিল অথবা এমনভাবে সংশোধন করা উচিত, যাতে জর্ডানের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং জাতীয় স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত থাকে।

এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে জর্ডানে বিদেশি সেনা মোতায়েন নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে জনমত আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

তবে জর্ডান সরকার পূর্বে জানিয়েছিল যে, দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে কাজ করছে এবং এই উপস্থিতি জর্ডানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।