ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে কথিত সমকামী বিবাহের আয়োজনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কওমি পরিষদ বাংলাদেশ। সংগঠনটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে কওমি পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি এবং রাজধানীর গুলিস্তান পীর ইয়ামেনী জামে মসজিদের খতিব মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান, সামাজিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে পরিবারব্যবস্থা এবং নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সমকামিতা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অবস্থায় প্রকাশ্যে সমকামী বিবাহের নামে কোনো আয়োজন করা আইনের প্রতি অবজ্ঞা এবং সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামসহ দেশের প্রধান ধর্মগুলো সমকামিতাকে বৈধতা দেয় না। তাই কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় বা পবিত্র স্থানকে কেন্দ্র করে এ ধরনের বিতর্কিত কর্মসূচি আয়োজন ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী বলেন, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি হয়েছে কি না—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইন অমান্য করে সমাজে অনৈতিকতা ও বিকৃত সংস্কৃতি বিস্তারের যেকোনো অপচেষ্টা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্কিত আয়োজন যাতে আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
বিবৃতির শেষে কওমি পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি দেশবাসীর প্রতি শান্তি, শৃঙ্খলা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় নৈতিকতা রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং আইন ও সামাজিক দায়িত্বশীলতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ করেন।
রিপোর্টারের নাম 



















