ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

হুতি অবরোধ ভাঙতে সৌদি আরবের বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি

দক্ষিণ লোহিত সাগরে তেল রপ্তানির ওপর ইয়েমেনি হুতি বিদ্রোহীদের আরোপিত অবরোধ ভাঙতে সৌদি আরব একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইয়েমেনি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মধ্য ইয়েমেনে সমুদ্রপথে এবং সম্ভব হলে স্থলপথে এই অভিযান পরিচালিত হতে পারে।

ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সৌদি বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে স্থল অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্য জাহাজের নিরাপত্তা রক্ষায় একটি বহুজাতিক নৌ জোট গঠনের চেষ্টা জোরদার করেছে রিয়াদ।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের প্রস্তাবিত বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের সমর্থনে বাংলাদেশ, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিশর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। রিয়াদ লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রতিরক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিকেও এই জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, লোহিত সাগরে নৌচলাচল নিরাপদ রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘অ্যাসপিডিস’ নামে একটি নৌ-নিরাপত্তা মিশন আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে।

ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ লোহিত সাগরের বিস্তীর্ণ উপকূল বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। গত ২০ জুলাই হুতিরা সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয়, তবে সব ধরনের জাহাজের ওপর কর চাপানোর পরিকল্পনা তারা অস্বীকার করেছে। হুতিদের দাবি, সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিলেই কেবল তারা নিজেদের অবরোধ প্রত্যাহার করবে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল সৌদি আরব।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে আরব উপদ্বীপের অপর পাশে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় সৌদি তেলের জন্য লোহিত সাগর রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সৌদি অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। বর্তমানে তাদের অর্ধেকেরও বেশি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়াঙ্কু বন্দরে এনে বাজারজাত করা হচ্ছে। সম্প্রতি হুতি বিদ্রোহীরা রিয়াদের বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করেছে এবং ২৫ জুলাই তারা সৌদি আরবের ভেতরের কৌশলগত তেল অবকাঠামোতে হামলার দাবি করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেলুচিস্তানের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত, ১০ জন নিখোঁজ

হুতি অবরোধ ভাঙতে সৌদি আরবের বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি

আপডেট সময় : ১২:০৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ লোহিত সাগরে তেল রপ্তানির ওপর ইয়েমেনি হুতি বিদ্রোহীদের আরোপিত অবরোধ ভাঙতে সৌদি আরব একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইয়েমেনি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মধ্য ইয়েমেনে সমুদ্রপথে এবং সম্ভব হলে স্থলপথে এই অভিযান পরিচালিত হতে পারে।

ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সৌদি বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে স্থল অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্য জাহাজের নিরাপত্তা রক্ষায় একটি বহুজাতিক নৌ জোট গঠনের চেষ্টা জোরদার করেছে রিয়াদ।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের প্রস্তাবিত বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের সমর্থনে বাংলাদেশ, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিশর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। রিয়াদ লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রতিরক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিকেও এই জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, লোহিত সাগরে নৌচলাচল নিরাপদ রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘অ্যাসপিডিস’ নামে একটি নৌ-নিরাপত্তা মিশন আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে।

ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ লোহিত সাগরের বিস্তীর্ণ উপকূল বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। গত ২০ জুলাই হুতিরা সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয়, তবে সব ধরনের জাহাজের ওপর কর চাপানোর পরিকল্পনা তারা অস্বীকার করেছে। হুতিদের দাবি, সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিলেই কেবল তারা নিজেদের অবরোধ প্রত্যাহার করবে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল সৌদি আরব।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে আরব উপদ্বীপের অপর পাশে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় সৌদি তেলের জন্য লোহিত সাগর রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সৌদি অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। বর্তমানে তাদের অর্ধেকেরও বেশি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়াঙ্কু বন্দরে এনে বাজারজাত করা হচ্ছে। সম্প্রতি হুতি বিদ্রোহীরা রিয়াদের বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করেছে এবং ২৫ জুলাই তারা সৌদি আরবের ভেতরের কৌশলগত তেল অবকাঠামোতে হামলার দাবি করে।