বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে ৩৬ দিন ভেসে থাকার অবিশ্বাস্য ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া দুই শ্রীলঙ্কান জেলে তাদের জীবন রক্ষাকারী বাংলাদেশি জেলে জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কৃতজ্ঞতার নিদর্শনস্বরূপ তারা নিজেদের মাছ ধরার নৌকাটি জিয়াউর রহমানকে উপহার দিতে চেয়েছেন। তবে, নৌকাটি বর্তমানে পুলিশের জব্দ তালিকাভুক্ত থাকায় আদালতের অনুমতি ছাড়া তা হস্তান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান জানান, উদ্ধার হওয়ার পর দুই শ্রীলঙ্কান নাগরিক প্রথমে তাদের নৌকাটি সঙ্গে নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ার কারণে সেটি সম্ভব নয় বলে জানানো হলে তারা স্বেচ্ছায় নৌকাটি উদ্ধারকারী জেলে জিয়াউর রহমানকে উপহার দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ওসি বলেন, “তারা আমাকে বলেছেন, যিনি তাদের জীবন বাঁচিয়েছেন, তাকে তারা নৌকাটি উপহার দিতে চান। তবে নৌকাটি ইতোমধ্যে জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে অনুমতি দিলে জিয়াউর রহমান নৌকাটি গ্রহণ করতে পারবেন।”
এ বিষয়ে জিয়াউর রহমান বলেন, “তারা আমাকে দিলেও খুশি, না দিলেও খুশি। আমি নিঃস্বার্থভাবে তাদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। তারা বলেছে, সারা জীবন এই ঘটনা মনে রাখবে। ভালোবেসে যদি নৌকাটি দিতে চায়, তাহলে আমি গ্রহণ করব।”
উদ্ধারের পর একদিন দুই শ্রীলঙ্কান জেলে জিয়াউর রহমানের বাড়িতে অবস্থান করেন। পরে মহেশখালী থানা থেকে ফোন পেয়ে শনিবার তাদের থানায় নিয়ে যান তিনি। পুলিশ জানায়, দুই জেলে শুধু তাদের মাতৃভাষায় কথা বলতে পারেন। অন্য কোনো ভাষা না জানায় শুরুতে তাদের বক্তব্য বুঝতে সমস্যায় পড়তে হয়। পরে কক্সবাজারের একটি হোটেলে কর্মরত এক শ্রীলঙ্কান নাগরিককে দোভাষী হিসেবে এনে তাদের কাছ থেকে পুরো ঘটনার বিবরণ নেওয়া হয়।
ওসি আবদুস সুলতান আরও জানান, দোভাষীর সহায়তায় তথ্য সংগ্রহের পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত নিজে ফোন করে দুই জেলের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, দুই জেলের পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় ছবি তুলে দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য ট্রাভেল পাস বা প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি ইস্যুর প্রক্রিয়া চলছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে তাদের শ্রীলঙ্কায় ফেরত পাঠানো হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















