সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নানা মাধ্যমে ভুয়া পরিচিতি তুলে ধরে পুলিশসহ সরকারের দায়িত্বশীল শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম, পদবী ও ছবি ব্যবহার করে প্রতারণার নতুন ফাঁদ তৈরি করেছে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। মেসেজ বা ব্যক্তিগত চ্যাটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে অর্থ দাবি করা কিংবা বিশেষ কোনো সুবিধাজনক কাজের প্রলোভন ও তদবিরের চেষ্টা চালুর ঘটনায় সাধারণ মানুষকে চরম সতর্ক ও সজাগ থাকার কড়া এবং জরুরি বার্তা প্রদান করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকালে পুলিশ সদর দপ্তরের পাবলিক রিলেশনস অ্যান্ড মিডিয়া উইং থেকে সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে এই বিশেষ সতর্কবার্তাটি সংবাদমাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।
পুলিশের পাঠানো বার্তা ও গণমাধ্যম বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে সাইবার প্রতারক চক্র দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা কিংবা সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেক বা ভুয়া আইডি তৈরি করছে। পরবর্তীতে সেই সকল ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে সাধারণ নাগরিকদের মেসেঞ্জারে বা ব্যক্তিগত বক্সে বার্তা পাঠিয়ে কৌশলে টাকা চাওয়া হচ্ছে অথবা বিভিন্ন কাজের সুনির্দিষ্ট তদবিরের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। অপরাধীরা সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সরকারের স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান ও নিষ্ঠাবান কর্তাদের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
সতর্কবার্তায় বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট করে নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো এক অ্যাকাউন্টে সরকারি কর্মকর্তার অফিসিয়াল ছবি, পদবী বা দৃশ্যমান পরিচয় থাকলেও সেটি নিশ্চিতভাবে ওই কর্মকর্তার নিজস্ব আইডি বা মোবাইল নম্বর বলে ধরে নেওয়ার কোনো সুযোগ বা যৌক্তিকতা নেই। কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কোনো আর্থিক লেনদেন বা কোনো সুবিধার দাবি জানালে তাতে কোনোভাবেই কান না দেওয়া বা সাড়া না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অপরাধীদের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকতে পুলিশ সদর দপ্তর সাধারণ নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট কিছু আইনি পরামর্শও প্রদান করেছে। যদি কেউ বা কোনো নাগরিক কোনো আইডি থেকে এ ধরনের সন্দেহভাজন প্রতারণামূলক বার্তা পান বা কোনো ধরনের অযাচিত চাপের সম্মুখীন হন, তবে মুহূর্তের মধ্যেই দেশের জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল করে বিষয়টি সরাসরি রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সিআইডির আওতাধীন ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ অথবা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঐতিহ্যবাহী ‘গোয়েন্দা বিভাগ’ (ডিবি) কার্যালয়ে দ্রুত যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে নাগরিক নিরাপত্তা বিঘ্নকারী এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্টকারী এসব সাইবার অপরাধী ও প্রতারক চক্রগুলোর বিরুদ্ধে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ভুয়া পরিচয় ধারণকারী এসব প্রতারকদের ধরে আইনি ব্যবস্থার আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পুলিশ সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।
রিপোর্টারের নাম 




















