ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পোলাও চালের দাম আকাশছোঁয়া, বাজারে ভেজাল ও জালিয়াতির অভিযোগ

দেশের বাজারে পোলাও চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও গত তিন মাসে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ টাকা, এবং শুধু গত এক সপ্তাহেই দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা। বর্তমানে ব্র্যান্ডভেদে প্যাকেটজাত পোলাও চাল সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির বস্তার দাম ১০ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে।

দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সুগন্ধি চালের বাজারে ভেজাল ও জালিয়াতির অভিযোগও বাড়ছে। কাটারি আতপ ও কম দামের চাল মিশিয়ে চিনিগুঁড়া বা কালিজিরা চাল হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও আবার সাধারণ আতপ চালে কৃত্রিম সুগন্ধি মিশিয়ে নামি ব্র্যান্ডের মোড়কে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা ভোক্তাদের প্রতারিত করছে।

খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিযোগ, মিল মালিক ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়েছে। তাদের দাবি, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তিন মাসে বস্তাপ্রতি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং এক সপ্তাহে প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। প্যাকেটজাত চালের কেজিতেও ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন ব্যয় কিছুটা বাড়লেও এত বড় মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তারা মনে করেন।

তবে দেশের অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম স্বপন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “সুগন্ধি ধানের উৎপাদন কমে যাওয়া, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি এবং বিয়ে-সামাজিক অনুষ্ঠান বাড়ায় চাহিদা বেড়েছে।” তিনি বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাময়িকভাবে পোলাও চাল রপ্তানি বন্ধ রাখারও পরামর্শ দেন।

রাজধানীর বাবুবাজার, নয়াবাজার, বাদামতলী ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের পোলাও চালের দাম বেড়েছে। তেজগাঁওয়ের চাঁদপুর রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়া জানান, “যে বস্তা কয়েক মাস আগে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন সেটিই ১০ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিলগেটেই মানভেদে প্রতি কেজি চাল কিনতে হচ্ছে ২০০ থেকে ২০৪ টাকায়, যা গত জুনে ছিল ১৫৬ থেকে ১৬৩ টাকা।” তার অভিযোগ, দেশের চালের বাজার হাতেগোনা ১০-১২টি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। তারা আগেভাগে ধান কিনে মজুত করে পরে দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা: নিহত ৮

পোলাও চালের দাম আকাশছোঁয়া, বাজারে ভেজাল ও জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৫৪:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

দেশের বাজারে পোলাও চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও গত তিন মাসে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ টাকা, এবং শুধু গত এক সপ্তাহেই দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা। বর্তমানে ব্র্যান্ডভেদে প্যাকেটজাত পোলাও চাল সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির বস্তার দাম ১০ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে।

দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সুগন্ধি চালের বাজারে ভেজাল ও জালিয়াতির অভিযোগও বাড়ছে। কাটারি আতপ ও কম দামের চাল মিশিয়ে চিনিগুঁড়া বা কালিজিরা চাল হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও আবার সাধারণ আতপ চালে কৃত্রিম সুগন্ধি মিশিয়ে নামি ব্র্যান্ডের মোড়কে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা ভোক্তাদের প্রতারিত করছে।

খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিযোগ, মিল মালিক ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়েছে। তাদের দাবি, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তিন মাসে বস্তাপ্রতি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং এক সপ্তাহে প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। প্যাকেটজাত চালের কেজিতেও ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন ব্যয় কিছুটা বাড়লেও এত বড় মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তারা মনে করেন।

তবে দেশের অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম স্বপন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “সুগন্ধি ধানের উৎপাদন কমে যাওয়া, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি এবং বিয়ে-সামাজিক অনুষ্ঠান বাড়ায় চাহিদা বেড়েছে।” তিনি বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাময়িকভাবে পোলাও চাল রপ্তানি বন্ধ রাখারও পরামর্শ দেন।

রাজধানীর বাবুবাজার, নয়াবাজার, বাদামতলী ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের পোলাও চালের দাম বেড়েছে। তেজগাঁওয়ের চাঁদপুর রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়া জানান, “যে বস্তা কয়েক মাস আগে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন সেটিই ১০ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিলগেটেই মানভেদে প্রতি কেজি চাল কিনতে হচ্ছে ২০০ থেকে ২০৪ টাকায়, যা গত জুনে ছিল ১৫৬ থেকে ১৬৩ টাকা।” তার অভিযোগ, দেশের চালের বাজার হাতেগোনা ১০-১২টি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। তারা আগেভাগে ধান কিনে মজুত করে পরে দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে।