ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

কোটা সংস্কার আন্দোলন (২০২৪): বিগত সরকারের রাষ্ট্রীয় শোক প্রত্যাখ্যান করে জনতার লাল প্রতিবাদ

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এই দিনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রহসনমূলক ‘রাষ্ট্রীয় শোক’ পালনের ঘোষণা দিয়েছিল। তৎকালীন সরকারের লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা ধরে রাখার শেষ চেষ্টা করা।

তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এই সরকারি শোককে ‘নির্মম উপহাস’ আখ্যা দিয়ে রাজপথে এবং অনলাইনে এক নতুন প্রতিবাদের ডাক দেয়। সেই দ্রোহের রঙ ছিল রক্তিম লাল। আন্দোলনকারীরা সারা দেশের মানুষকে মুখে ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানায়। তাদের বার্তা ছিল স্পষ্ট—রক্তের দাগ না শুকাতেই সরকারি শোকের কোনো নাটক এ দেশের ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না।

২০২৪ সালের ২৯ জুলাই তৎকালীন মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৩০ জুলাই সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এই সিদ্ধান্তকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। আন্দোলন সমন্বয়ক মাহিন সরকারের পাঠানো বার্তায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়, হাজারো শিক্ষার্থীর ওপর গুলি চালিয়ে, শত শত প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পর এই রাষ্ট্রীয় শোক পালন আসলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক ধরনের ‘নির্মম উপহাস’। যারা হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের জন্য সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না করে শোকের নামে কালো ব্যাজ ধারণ করাকে শিক্ষার্থীরা তামাশা হিসেবে দেখেছিল।

এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ৩০ জুলাই সারা দেশে মুখে ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে ছবি তোলা এবং তা অনলাইনে প্রচার করার অভিনব কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই ডাকে অভাবনীয় সাড়া মেলে। ২৯ জুলাই মধ্যরাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এক রক্তিম লাল আভার রূপ নেয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং অনেক তারকাও তাদের প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করে লাল রঙের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। এটি ছিল রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া ‘কালো’ শোকের বিপরীতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ‘লাল’ প্রতিবাদের এক মহাকাব্য।

ওই সময় সরকার যখন আন্দোলন সমন্বয়কদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যালয়ে আটকে রেখে ‘নিরাপত্তা হেফাজতের’ নামে আপ্যায়ন ও কর্মসূচি প্রত্যাহারের নাটক সাজাচ্ছিল, তখন উচ্চ আদালত থেকে আসে এক কঠোর দিকনির্দেশনা। ২৯ জুলাই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিট শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কাকে কী করতে হবে, তা কে বলেছে? কেন করলেন এগুলো? জাতিকে নিয়ে মশকরা করবেন না।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা: নিহত ৮

কোটা সংস্কার আন্দোলন (২০২৪): বিগত সরকারের রাষ্ট্রীয় শোক প্রত্যাখ্যান করে জনতার লাল প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ১০:৫২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এই দিনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রহসনমূলক ‘রাষ্ট্রীয় শোক’ পালনের ঘোষণা দিয়েছিল। তৎকালীন সরকারের লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা ধরে রাখার শেষ চেষ্টা করা।

তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এই সরকারি শোককে ‘নির্মম উপহাস’ আখ্যা দিয়ে রাজপথে এবং অনলাইনে এক নতুন প্রতিবাদের ডাক দেয়। সেই দ্রোহের রঙ ছিল রক্তিম লাল। আন্দোলনকারীরা সারা দেশের মানুষকে মুখে ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানায়। তাদের বার্তা ছিল স্পষ্ট—রক্তের দাগ না শুকাতেই সরকারি শোকের কোনো নাটক এ দেশের ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না।

২০২৪ সালের ২৯ জুলাই তৎকালীন মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৩০ জুলাই সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এই সিদ্ধান্তকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। আন্দোলন সমন্বয়ক মাহিন সরকারের পাঠানো বার্তায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়, হাজারো শিক্ষার্থীর ওপর গুলি চালিয়ে, শত শত প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পর এই রাষ্ট্রীয় শোক পালন আসলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক ধরনের ‘নির্মম উপহাস’। যারা হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের জন্য সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না করে শোকের নামে কালো ব্যাজ ধারণ করাকে শিক্ষার্থীরা তামাশা হিসেবে দেখেছিল।

এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ৩০ জুলাই সারা দেশে মুখে ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে ছবি তোলা এবং তা অনলাইনে প্রচার করার অভিনব কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই ডাকে অভাবনীয় সাড়া মেলে। ২৯ জুলাই মধ্যরাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এক রক্তিম লাল আভার রূপ নেয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং অনেক তারকাও তাদের প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করে লাল রঙের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। এটি ছিল রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া ‘কালো’ শোকের বিপরীতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ‘লাল’ প্রতিবাদের এক মহাকাব্য।

ওই সময় সরকার যখন আন্দোলন সমন্বয়কদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যালয়ে আটকে রেখে ‘নিরাপত্তা হেফাজতের’ নামে আপ্যায়ন ও কর্মসূচি প্রত্যাহারের নাটক সাজাচ্ছিল, তখন উচ্চ আদালত থেকে আসে এক কঠোর দিকনির্দেশনা। ২৯ জুলাই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিট শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কাকে কী করতে হবে, তা কে বলেছে? কেন করলেন এগুলো? জাতিকে নিয়ে মশকরা করবেন না।”