ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মানিকদিতে মধ্যরাতে নাম না জানা দুর্বৃত্তের তাণ্ডব: গুলিবিদ্ধ কলেজছাত্র

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি আমতলা এলাকায় গভীর রাতে এক কলেজশিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন মো. করিম (১৮) নামে এক তরুণ। তিনি মিরপুর বাংলা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে আমতলা সংলগ্ন এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত করিমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাতে কাজ শেষে বা ফেরার পথে মানিকদির বহুল পরিচিত ‘৩২ মালিকের বিল্ডিং’ নামের একটি ভবনের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। অন্ধকারে হঠাৎ একাধিক গুলির শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ছুটাছুটি শুরু করেন এবং পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় করিমকে পড়ে থাকতে দেখেন।

গুলি করিমের দুটি পায়েই আঘাত করে। ঘটনার আকস্মিকতায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে অবিলম্বে নিকটস্থ কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে আঘাতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।

ঢামেক হাসপাতাল সূত্রের খবর, গভীর রাত আনুমানিক ১টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কালবিলম্ব না করে তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করেন। সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে করিমের ডান পায়ে গেঁথে থাকা একটি সীসার গুলি বের করে আনা সম্ভব হয়। অপরদিকে তাঁর বাম পায়ে লাগা একটি গুলি পা ভেদ করে বের হয়ে যায়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও ড্রেসিং শেষে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় রাতেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বাসায় পাঠানে হয়।

ভুক্তভোগী কলেজছাত্রের বাবা রফিকুল ইসলাম এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে জানান, কারা কী উদ্দেশ্যে বা কোন্ শত্রুতার জেরে ১৮ বছরের এক উদীয়মান শিক্ষার্থীর ওপর এমন নৃশংস হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে তাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক কলেজছাত্রকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। জরুরি বিভাগে তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাঁর পরিবার তাকে বাসায় নিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এই হামলার ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুমৃত্যুর হার কমে ৩৩ এ, তবে ৩৮ শতাংশ শিশুর রক্তে মিলল বিষাক্ত সিসা: বিবিএস

রাজধানীর মানিকদিতে মধ্যরাতে নাম না জানা দুর্বৃত্তের তাণ্ডব: গুলিবিদ্ধ কলেজছাত্র

আপডেট সময় : ১০:৩৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি আমতলা এলাকায় গভীর রাতে এক কলেজশিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন মো. করিম (১৮) নামে এক তরুণ। তিনি মিরপুর বাংলা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে আমতলা সংলগ্ন এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত করিমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাতে কাজ শেষে বা ফেরার পথে মানিকদির বহুল পরিচিত ‘৩২ মালিকের বিল্ডিং’ নামের একটি ভবনের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। অন্ধকারে হঠাৎ একাধিক গুলির শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ছুটাছুটি শুরু করেন এবং পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় করিমকে পড়ে থাকতে দেখেন।

গুলি করিমের দুটি পায়েই আঘাত করে। ঘটনার আকস্মিকতায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে অবিলম্বে নিকটস্থ কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে আঘাতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।

ঢামেক হাসপাতাল সূত্রের খবর, গভীর রাত আনুমানিক ১টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কালবিলম্ব না করে তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করেন। সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে করিমের ডান পায়ে গেঁথে থাকা একটি সীসার গুলি বের করে আনা সম্ভব হয়। অপরদিকে তাঁর বাম পায়ে লাগা একটি গুলি পা ভেদ করে বের হয়ে যায়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও ড্রেসিং শেষে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় রাতেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বাসায় পাঠানে হয়।

ভুক্তভোগী কলেজছাত্রের বাবা রফিকুল ইসলাম এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে জানান, কারা কী উদ্দেশ্যে বা কোন্ শত্রুতার জেরে ১৮ বছরের এক উদীয়মান শিক্ষার্থীর ওপর এমন নৃশংস হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে তাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক কলেজছাত্রকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। জরুরি বিভাগে তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাঁর পরিবার তাকে বাসায় নিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এই হামলার ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।