ঢাকা ০৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

মনোযোগের রাজনীতি: বৃহৎ সংকটের আড়ালে যখন তুচ্ছ বিতর্ক

আধুনিক গণতান্ত্রিক সমাজে একটি সাধারণ ধারণা প্রচলিত যে, জনমানুষের মনোযোগ বোধহয় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাস্তবতা এর ঠিক বিপরীত। মানুষ প্রায়ই বস্তুনিষ্ঠ ক্ষতির চেয়ে প্রতীকী ঘটনা, আবেগ এবং গণমাধ্যমের তৈরি করা আখ্যানের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়। ফলে অনেক বড় বড় কাঠামোগত অবিচার বা অর্থনৈতিক ক্ষতি জনস্মৃতি থেকে হারিয়ে গেলেও তুলনামূলক ছোট ও মুখরোচক কোনো বিতর্ক আলোচনার তুঙ্গে চলে আসে।

ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এর বহু উদাহরণ পাওয়া যায়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুণ্ঠন করা হলেও আমাদের আলোচনায় প্রায়ই সাময়িক বা ক্ষুদ্রতর ইস্যুগুলো প্রাধান্য পায়। একইভাবে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বা অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের চেয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোনো ব্যক্তির সাধারণ জীবনযাপন বা বির্তকিত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি তোলপাড় হতে দেখা যায়। এটি মূলত মনোযোগের সামাজিক সংগঠনের ফল, যা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলোকে আড়ালে ঠেলে দেয়।

এই মনোযোগের রাজনীতির পেছনে ‘এজেন্ডা সেটিং’ তত্ত্ব বড় ভূমিকা পালন করে। গণমাধ্যম বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো সাধারণ মানুষকে কী ভাবতে হবে তা সরাসরি না বললেও, তারা নির্ধারণ করে দেয় মানুষ কী বিষয় নিয়ে ভাববে। যখন তুচ্ছ কোনো বিতর্ককে বড় করে দেখানো হয়, তখন বড় বড় জাতীয় সংকটগুলো প্রান্তিক হয়ে পড়ে। এই চক্র থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত জাতীয় সমস্যাগুলো নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পরোয়ানা গায়েব: বিচারিক প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নাকি ঘুষের লেনদেন?

মনোযোগের রাজনীতি: বৃহৎ সংকটের আড়ালে যখন তুচ্ছ বিতর্ক

আপডেট সময় : ১২:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

আধুনিক গণতান্ত্রিক সমাজে একটি সাধারণ ধারণা প্রচলিত যে, জনমানুষের মনোযোগ বোধহয় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাস্তবতা এর ঠিক বিপরীত। মানুষ প্রায়ই বস্তুনিষ্ঠ ক্ষতির চেয়ে প্রতীকী ঘটনা, আবেগ এবং গণমাধ্যমের তৈরি করা আখ্যানের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়। ফলে অনেক বড় বড় কাঠামোগত অবিচার বা অর্থনৈতিক ক্ষতি জনস্মৃতি থেকে হারিয়ে গেলেও তুলনামূলক ছোট ও মুখরোচক কোনো বিতর্ক আলোচনার তুঙ্গে চলে আসে।

ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এর বহু উদাহরণ পাওয়া যায়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুণ্ঠন করা হলেও আমাদের আলোচনায় প্রায়ই সাময়িক বা ক্ষুদ্রতর ইস্যুগুলো প্রাধান্য পায়। একইভাবে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বা অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের চেয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোনো ব্যক্তির সাধারণ জীবনযাপন বা বির্তকিত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি তোলপাড় হতে দেখা যায়। এটি মূলত মনোযোগের সামাজিক সংগঠনের ফল, যা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলোকে আড়ালে ঠেলে দেয়।

এই মনোযোগের রাজনীতির পেছনে ‘এজেন্ডা সেটিং’ তত্ত্ব বড় ভূমিকা পালন করে। গণমাধ্যম বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো সাধারণ মানুষকে কী ভাবতে হবে তা সরাসরি না বললেও, তারা নির্ধারণ করে দেয় মানুষ কী বিষয় নিয়ে ভাববে। যখন তুচ্ছ কোনো বিতর্ককে বড় করে দেখানো হয়, তখন বড় বড় জাতীয় সংকটগুলো প্রান্তিক হয়ে পড়ে। এই চক্র থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত জাতীয় সমস্যাগুলো নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।