ফরিদপুরের সাতৈর ‘খ’ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গুনে গুনে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসন দ্রুত এই পদক্ষেপ নেয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
রোববার সন্ধ্যায় ২ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পায়। ভিডিওতে দেখা যায়, উপসহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখ একজন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করছেন। কথোপকথনে সেবাগ্রহীতার পরিচয় (বাহারুল আলম, সাতৈর গ্রামের সৈয়দ আবু হাসানের পুত্র) এবং টাকার অঙ্ক (৫ হাজার) স্পষ্ট শোনা যায়। ভিডিওতে ইমরান শেখ সেবাগ্রহীতাকে আশ্বস্ত করে বলেন, তিনি সেদিন রাতেই আবেদন প্রস্তুত করবেন এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে জমা দিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে জমির মিউটেশন কাজ সম্পন্ন করে দেবেন।
কথোপকথনের একপর্যায়ে ভূমি কর্মকর্তা ইমরান শেখকে বলতে শোনা যায়, ‘উনিও ৪০বিসিএসের, আমিও ৪০বিসিএসের। তবে আল্লাহ উনাকে ক্যাডার বানিয়েছেন, আর আমাকে নন-ক্যাডার বানিয়েছেন।’ ধারণা করা হচ্ছে, জমির মিউটেশন সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার জন্যই এই অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই রোববার ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এক অফিস আদেশে উপসহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ জানান, বিষয়টি জানার পরপরই জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনা সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
রিপোর্টারের নাম 



















