ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনা অর্থহীন: ককরোচ পার্টির কড়া বার্তা

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের প্রাক্কালে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণে মোদি সরকার রাজি না হলে আলোচনায় বসার কোনো অর্থ হয় না।

শনিবার সকালে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে আমরা সরে আসব না। সরকার যদি এতে সম্মত না হয়, তাহলে পরবর্তী আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই।’

শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পর মন্ত্রীরা জানান, দাবিগুলো নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরে আলোচনা শেষে শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফার বৈঠকে তারা চূড়ান্ত অবস্থান জানাবেন।

সিজেপি সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছে: শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ প্রদান।

শুক্রবারের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দুটি দাবির বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা বলেন, ‘প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক হয়েছে। তাদের তিনটি মূল দাবি এবং পরীক্ষা সংস্কারসংক্রান্ত পাঁচটি প্রস্তাব রয়েছে। আমরা জানিয়েছি, শনিবার আবার বৈঠকে বসে সরকারের আলোচনার ফল তাদের জানানো হবে।’

অন্যদিকে, সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকারের মতে, ‘পদত্যাগই সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত হতে পারে, কিন্তু সরকার মন্ত্রীর পাশে রয়েছে। জনগণ আমাদের যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা আমরা বাস্তবায়ন করব।’

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে গত দুই দিনে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গিয়ে নেত্রকোণায় একজনের মৃত্যু

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনা অর্থহীন: ককরোচ পার্টির কড়া বার্তা

আপডেট সময় : ১১:২১:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের প্রাক্কালে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণে মোদি সরকার রাজি না হলে আলোচনায় বসার কোনো অর্থ হয় না।

শনিবার সকালে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে আমরা সরে আসব না। সরকার যদি এতে সম্মত না হয়, তাহলে পরবর্তী আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই।’

শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পর মন্ত্রীরা জানান, দাবিগুলো নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরে আলোচনা শেষে শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফার বৈঠকে তারা চূড়ান্ত অবস্থান জানাবেন।

সিজেপি সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছে: শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ প্রদান।

শুক্রবারের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দুটি দাবির বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা বলেন, ‘প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক হয়েছে। তাদের তিনটি মূল দাবি এবং পরীক্ষা সংস্কারসংক্রান্ত পাঁচটি প্রস্তাব রয়েছে। আমরা জানিয়েছি, শনিবার আবার বৈঠকে বসে সরকারের আলোচনার ফল তাদের জানানো হবে।’

অন্যদিকে, সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকারের মতে, ‘পদত্যাগই সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত হতে পারে, কিন্তু সরকার মন্ত্রীর পাশে রয়েছে। জনগণ আমাদের যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা আমরা বাস্তবায়ন করব।’

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে গত দুই দিনে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।