গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পদত্যাগের পর দেশের বিদ্যমান সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রাষ্ট্রপতির পদ খালি হওয়ার ফলে এখন দেশে দ্রুত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া এই সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আগামী ৯০ দিন অথবা তার আগেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার স্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
সার্বিক বিষয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কমিশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী রোববার বা তার পরবর্তী দিনগুলোতে তফসিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কমিশন বিশেষ বৈঠক করবে। অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যেই দেশবাসী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল জানতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও জানান, জাতীয় সংসদের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পরপরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই আনুষ্ঠানিক তফসিল প্রকাশ করা হবে। এই নির্বাচন পরিচালনার কাজ অনেকটা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন পদ্ধতির মতো সম্পাদন করা হবে। যদি রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকেন, তবে নির্ধারিত দিনে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে; আর যদি কেবল একক প্রার্থী থাকেন, তবে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি দেশের প্রচলিত ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন-১৯৯১’ কঠোরভাবে অনুসরণ করে পরিচালনা করা হবে। এই বিশেষ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিজেই মূল রিটার্নিং কর্মকর্তার গুরুদায়িত্ব পালন করবেন। বিদ্যমান সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনের প্রত্যক্ষ ভোটার হিসেবে গণ্য হবেন। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ভোটার তালিকা তৈরি করে তা চূড়ান্ত করবে বলে জানিয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ওই দিন বিকেল ৫টা ১ মিনিটে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেন।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী জমা দেওয়া সেই পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’সহ মারাত্মক পাঁচ ধরনের জটিল রোগে ভুগছেন। এসব জটিল শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। এ ছাড়া ইতিপূর্বে তাঁর হৃদযন্ত্রে জটিল বাইপাস সার্জারিও সম্পন্ন হয়েছে।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও জানান, এসব মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব সঠিক ও নিষ্ঠার সাথে পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় তাঁর জরুরিভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















