ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বৈভব সূর্যবংশীর বিশ্বরেকর্ডময় ফিফটিতে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ভারতের সিরিজ জয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপ জয়ের পর টি-টোয়েন্টিতে হারের বৃত্ত ভেঙে অবশেষে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করেছে ভারত। হারারেতে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীর রেকর্ডগড়া ১৮ বলের ঝড়ো অর্ধশতক এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।

১২৬ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ম্যাচটিকে একপেশে করে দেন তরুণ সূর্যবংশী। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে যেখানে তিনি ৮০ বলে ১৭৫ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেছিলেন, সেই হারারের মাঠেই এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেললেন আরেকটি স্মরণীয় ইনিংস। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি জিম্বাবুয়ের দুই লম্বা পেসার রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানিকে আক্রমণের লক্ষ্য বানান। মুজারাবানির প্রথম বাউন্সারে সংযোগ করতে না পারলেও পরের বলেই রানের খাতা খোলেন। এরপর এনগারাভার এক ওভারে ছক্কা-চার-ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন।

পঞ্চম ওভারে মুজারাবানিকে দুই চার ও একটি বিশাল ছক্কা মেরে মাত্র ১৭ বলেই পৌঁছে যান ৪৮ রানে। পরের বলেই পূরণ করেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম অর্ধশতক। মাত্র ১৮ বলে ফিফটি করে ভারতের হয়ে অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তিনি। একই সঙ্গে ১৫ বছর ১১৮ দিন বয়সে ফিফটি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরিয়ানের খেতাব অর্জন করেন, যা নেপালের কুশাল মাল্লার ১৫ বছর ৩৪০ দিন বয়সে ফিফটির আগের রেকর্ড ভেঙে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯ বলে ৫০ রান করে আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার, যার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা।

এর আগে অবশ্য ভারতের শুরুটা ভালো হয়নি। অভিষেক শর্মা দ্রুত ফিরলেও সূর্যবংশীর ঝড়ে সেই ধাক্কা টেরই পায়নি সফরকারীরা। তিনি যখন আউট হন, তখন ভারতের স্কোর ২ উইকেটে ৬৮ রান, জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আর মাত্র ৫৮ রান। এরপর ইনিংস সামাল দেন ঈশান কিশান ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। তৃতীয় উইকেটে তারা যোগ করেন ৪৬ রান। কিশান ২৪ বলে ৩৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল দুটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা। অন্য প্রান্তে আইয়ার ছিলেন শান্ত ও দায়িত্বশীল। মাত্র ১৩.২ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান তুলে ৪০ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ভারত।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের। ম্যাচের প্রথম বলেই ব্রায়ান বেনেটকে ফিরিয়ে দেন মায়াঙ্ক যাদব। গতি ও সুইংয়ের দারুণ মিশেলে প্রথম স্পেলেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেয় ভারতীয় বোলাররা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়েমেনে অবরোধ না তুললে সৌদি আরামকোতে হামলার হুঁশিয়ারি হুথিদের

বৈভব সূর্যবংশীর বিশ্বরেকর্ডময় ফিফটিতে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ভারতের সিরিজ জয়

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ জয়ের পর টি-টোয়েন্টিতে হারের বৃত্ত ভেঙে অবশেষে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করেছে ভারত। হারারেতে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীর রেকর্ডগড়া ১৮ বলের ঝড়ো অর্ধশতক এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।

১২৬ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ম্যাচটিকে একপেশে করে দেন তরুণ সূর্যবংশী। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে যেখানে তিনি ৮০ বলে ১৭৫ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেছিলেন, সেই হারারের মাঠেই এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেললেন আরেকটি স্মরণীয় ইনিংস। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি জিম্বাবুয়ের দুই লম্বা পেসার রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানিকে আক্রমণের লক্ষ্য বানান। মুজারাবানির প্রথম বাউন্সারে সংযোগ করতে না পারলেও পরের বলেই রানের খাতা খোলেন। এরপর এনগারাভার এক ওভারে ছক্কা-চার-ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন।

পঞ্চম ওভারে মুজারাবানিকে দুই চার ও একটি বিশাল ছক্কা মেরে মাত্র ১৭ বলেই পৌঁছে যান ৪৮ রানে। পরের বলেই পূরণ করেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম অর্ধশতক। মাত্র ১৮ বলে ফিফটি করে ভারতের হয়ে অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তিনি। একই সঙ্গে ১৫ বছর ১১৮ দিন বয়সে ফিফটি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরিয়ানের খেতাব অর্জন করেন, যা নেপালের কুশাল মাল্লার ১৫ বছর ৩৪০ দিন বয়সে ফিফটির আগের রেকর্ড ভেঙে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯ বলে ৫০ রান করে আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার, যার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা।

এর আগে অবশ্য ভারতের শুরুটা ভালো হয়নি। অভিষেক শর্মা দ্রুত ফিরলেও সূর্যবংশীর ঝড়ে সেই ধাক্কা টেরই পায়নি সফরকারীরা। তিনি যখন আউট হন, তখন ভারতের স্কোর ২ উইকেটে ৬৮ রান, জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আর মাত্র ৫৮ রান। এরপর ইনিংস সামাল দেন ঈশান কিশান ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। তৃতীয় উইকেটে তারা যোগ করেন ৪৬ রান। কিশান ২৪ বলে ৩৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল দুটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা। অন্য প্রান্তে আইয়ার ছিলেন শান্ত ও দায়িত্বশীল। মাত্র ১৩.২ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান তুলে ৪০ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ভারত।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের। ম্যাচের প্রথম বলেই ব্রায়ান বেনেটকে ফিরিয়ে দেন মায়াঙ্ক যাদব। গতি ও সুইংয়ের দারুণ মিশেলে প্রথম স্পেলেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেয় ভারতীয় বোলাররা।