ইরান সমর্থিত ইয়েমেনি হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণার পর লোহিত সাগরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হুতিদের হুমকির মুখে অন্তত সাতটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ইয়েমেন উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রসীমা থেকে গতিপথ পরিবর্তন করে বিপরীত দিকে যাত্রা করতে বাধ্য হয়েছে।
মেরিন ট্রাফিক প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘রোডোস’, যা সৌদি তেল নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল, বাবেল মানদেব প্রণালীর কাছে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর দিকে ঘুরে যায়। একইভাবে সৌদি আরবের জাজান বন্দর ত্যাগকারী ‘মাইকা’ নামের আরেকটি ট্যাংকারও দ্রুত তার পথ পরিবর্তন করে। চীন থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা ও অন্যান্য বন্দরে আসা বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক জাহাজও এডেন উপসাগর ও আরব সাগরে পথ বদলে অবস্থান নিয়েছে।
শিপিং কোম্পানিগুলোকে পাঠানো এক ইমেইলে হুতিরা সতর্ক করে জানিয়েছে যে, সৌদি আরবের কোনো বন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারা আরও জানিয়েছে যে, তাদের আওতাধীন এলাকার যেকোনো স্থানে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জাহাজে হামলা চালানো হতে পারে। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর ও বিমানবন্দরে সৌদি আরবের আরোপিত অবরোধের জবাবেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সৌদি আরব এই অভিযোগ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের জাহাজ ও বাণিজ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব তাদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৭০ শতাংশের বেশি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে স্থানান্তরিত করেছিল। কিন্তু নতুন করে লোহিত সাগর ও বাবেল মানদেব প্রণালী ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক নৌ-মিশন ‘অ্যাসপিডেস’ এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিস’-এর বিশ্লেষক রোজমেরি কেলানিক জানিয়েছেন, হুতিদের এই হুমকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 




















