ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

গত অর্থবছরে বিপুল রাজস্ব ঘাটতির পর বেনাপোল বন্দরে নতুন লক্ষ্যমাত্রা হ্রাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসকে গত অর্থবছরের তুলনায় সদ্য শুরু হওয়া অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে নির্ধারণ করে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন অর্থবছরে এই স্পর্শকাতর বন্দরের জন্য সর্বমোট ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের মূল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এনবিআর কর্তৃক নির্ধারিত এই নতুন লক্ষ্যমাত্রা বিগত অর্থবছরের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৭০২ কোটি টাকা কম।

বেনাপোল কাস্টমস কার্যালয় সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, সদ্যবিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসকে মোট ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল। তবে অর্থবছর শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রকৃত রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয় মাত্র ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। এর ফলে অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রেকর্ড ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব ঘাটতি দেখা দেয়।

নতুন অর্থবছরে কমানো লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জনে বেনাপোল কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই বিষয়ে ভিন্নমত ও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট ভাষ্য, বেনাপোল বন্দর দিয়ে বৈধ আমদানি বাণিজ্যে আরও সুযোগ-সুবিধা ও আধুনিকতা নিশ্চিত করা, অবৈধ পণ্য পাচার ও বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি কার্যকরভাবে কঠোর হাতে রোধ করা এবং বাণিজ্যের ওপর বর্তমানে বহাল থাকা বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা অতি দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে এই কমানো লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করাও চরম কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে স্থানীয় কাস্টমস কার্যালয়ের সংগৃহীত নথিপত্র থেকে জানা গেছে, গত মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে বেনাপোল কাস্টমসে ছোট-বড় মোট ১৩০টি জালিয়াতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের ঘটনা সফলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে সংঘটিত প্রায় ২০ কোটি টাকার বিপুল পণ্য পাচারের গুরুতর অভিযোগে দায়ের হওয়া চারটি পৃথক মামলায় কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও ব্যবসায়ীসহ সর্বমোট ৫৭ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি করা হয়েছে।

রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সুযোগ্য সহসভাপতি আমিনুল হক মত প্রকাশ করে বলেন, পোর্টে স্বাভাবিক আমদানি কার্যক্রম বহুগুণ বৃদ্ধি করা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা সুনিশ্চিতকরণ এবং সীমান্ত পাচার ও নানা অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল এই বিশাল রাজস্ব টার্গেট পূরণ করা সম্ভব।

অন্য দিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, “জাতীয় রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে কাস্টমসের সর্বস্তরের কর্মকর্তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেসকল অসাধু ব্যক্তি বা পক্ষ প্রত্যক্ষ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং বিধি অনুযায়ী জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণের অভিযোগ: উত্তাল ক্যাম্পাস, প্রশাসনিক ভবনে তালা

গত অর্থবছরে বিপুল রাজস্ব ঘাটতির পর বেনাপোল বন্দরে নতুন লক্ষ্যমাত্রা হ্রাস

আপডেট সময় : ০২:২২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসকে গত অর্থবছরের তুলনায় সদ্য শুরু হওয়া অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে নির্ধারণ করে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন অর্থবছরে এই স্পর্শকাতর বন্দরের জন্য সর্বমোট ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের মূল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এনবিআর কর্তৃক নির্ধারিত এই নতুন লক্ষ্যমাত্রা বিগত অর্থবছরের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৭০২ কোটি টাকা কম।

বেনাপোল কাস্টমস কার্যালয় সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, সদ্যবিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসকে মোট ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল। তবে অর্থবছর শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রকৃত রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয় মাত্র ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। এর ফলে অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রেকর্ড ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব ঘাটতি দেখা দেয়।

নতুন অর্থবছরে কমানো লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জনে বেনাপোল কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই বিষয়ে ভিন্নমত ও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট ভাষ্য, বেনাপোল বন্দর দিয়ে বৈধ আমদানি বাণিজ্যে আরও সুযোগ-সুবিধা ও আধুনিকতা নিশ্চিত করা, অবৈধ পণ্য পাচার ও বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি কার্যকরভাবে কঠোর হাতে রোধ করা এবং বাণিজ্যের ওপর বর্তমানে বহাল থাকা বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা অতি দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে এই কমানো লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করাও চরম কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে স্থানীয় কাস্টমস কার্যালয়ের সংগৃহীত নথিপত্র থেকে জানা গেছে, গত মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে বেনাপোল কাস্টমসে ছোট-বড় মোট ১৩০টি জালিয়াতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের ঘটনা সফলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে সংঘটিত প্রায় ২০ কোটি টাকার বিপুল পণ্য পাচারের গুরুতর অভিযোগে দায়ের হওয়া চারটি পৃথক মামলায় কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও ব্যবসায়ীসহ সর্বমোট ৫৭ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি করা হয়েছে।

রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সুযোগ্য সহসভাপতি আমিনুল হক মত প্রকাশ করে বলেন, পোর্টে স্বাভাবিক আমদানি কার্যক্রম বহুগুণ বৃদ্ধি করা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা সুনিশ্চিতকরণ এবং সীমান্ত পাচার ও নানা অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল এই বিশাল রাজস্ব টার্গেট পূরণ করা সম্ভব।

অন্য দিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, “জাতীয় রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে কাস্টমসের সর্বস্তরের কর্মকর্তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেসকল অসাধু ব্যক্তি বা পক্ষ প্রত্যক্ষ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং বিধি অনুযায়ী জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।”