ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

১০ লাখ টাকা ঘুষে চাকরি, ১১ বছর বেতন ছাড়া শিক্ষকতা!

শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রায় ১১ বছর আগে একটি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেছিলেন নার্গিস খাতুন। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়ে একদিনের জন্যও বেতন পাননি। এমপিওভুক্ত না হওয়ায়, বিনা বেতনে শিক্ষকতা করতে করতে তিনি এখন অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন। তার অভিযোগ, শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও প্রতারণার মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের নামে তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকার নাম নার্গিস খাতুন। তিনি নওগাঁর মান্দা উপজেলার গোয়ালমান্দা গ্রামের খোরশেদ আলম শিলালের মেয়ে এবং জোতবাজার আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে কর্মরত আছেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ান তাকে যোগদানের চিঠি দেন। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ২০১৫ সালের ১ আগস্ট বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

নার্গিস খাতুন বলেন, যোগদানের পর থেকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে আগে থেকেই একজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন, অর্থাৎ পদটি শূন্য ছিল না। তার দাবি, বিষয়টি নিয়োগের সময় তাকে জানানো হয়নি।

তার অভিযোগ, ‘বিল-বেতনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক প্রতিবারই আজ-কাল বলে সময়ক্ষেপণ করেছেন। নিয়োগের সময় জমি ও গহনা বিক্রি করে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ানকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এখন জানতে পেরেছি, প্রতারণার মাধ্যমে শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমার চাকরির বয়সও শেষ হয়ে এসেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচার চাই।’ নার্গিস খাতুনের বাবা খোরশেদ আলম শিলাল বলেন, ‘প্রতারণার মাধ্যমে আমার মেয়ের জীবনটাই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে ১১ চালককে জরিমানা

১০ লাখ টাকা ঘুষে চাকরি, ১১ বছর বেতন ছাড়া শিক্ষকতা!

আপডেট সময় : ১০:৪৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রায় ১১ বছর আগে একটি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেছিলেন নার্গিস খাতুন। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়ে একদিনের জন্যও বেতন পাননি। এমপিওভুক্ত না হওয়ায়, বিনা বেতনে শিক্ষকতা করতে করতে তিনি এখন অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন। তার অভিযোগ, শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও প্রতারণার মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের নামে তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকার নাম নার্গিস খাতুন। তিনি নওগাঁর মান্দা উপজেলার গোয়ালমান্দা গ্রামের খোরশেদ আলম শিলালের মেয়ে এবং জোতবাজার আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে কর্মরত আছেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ান তাকে যোগদানের চিঠি দেন। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ২০১৫ সালের ১ আগস্ট বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

নার্গিস খাতুন বলেন, যোগদানের পর থেকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে আগে থেকেই একজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন, অর্থাৎ পদটি শূন্য ছিল না। তার দাবি, বিষয়টি নিয়োগের সময় তাকে জানানো হয়নি।

তার অভিযোগ, ‘বিল-বেতনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক প্রতিবারই আজ-কাল বলে সময়ক্ষেপণ করেছেন। নিয়োগের সময় জমি ও গহনা বিক্রি করে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ানকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এখন জানতে পেরেছি, প্রতারণার মাধ্যমে শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমার চাকরির বয়সও শেষ হয়ে এসেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচার চাই।’ নার্গিস খাতুনের বাবা খোরশেদ আলম শিলাল বলেন, ‘প্রতারণার মাধ্যমে আমার মেয়ের জীবনটাই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।’