সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পেছানো হয়েছে। এই নিয়ে ১২৮ বারের মতো পিছিয়ে আগামী ২৭ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের অতিরিক্ত এসপি মো. আজিজুল হক তা জমা দিতে পারেননি। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মামলার জট আরও বাড়লো, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ এবং পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলাটি তদন্ত করে। তবে দুই মাসের বেশি সময় ধরে তদন্ত করেও রহস্য উন্মোচন করতে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট দম্পতি সাগর ও রুনি হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে র্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দিয়ে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
হাইকোর্টের নির্দেশের পর ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়।
এই মামলার আসামিরা হলেন— রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ বর্তমানে জামিনে রয়েছেন, বাকিরা কারাগারে আটক আছেন।
রিপোর্টারের নাম 























