মস্তিষ্কের ক্ষয়জনিত রোগ ‘ডিমেনশিয়া’র প্রকোপ বাংলাদেশে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত, তবে শনাক্তের বাইরে থাকা রোগীর সংখ্যা এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। দ্রুত বাড়তে থাকা প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ডিমেনশিয়ার বিস্তার বাড়লেও রোগীদের পরিচর্যা ও চিকিৎসা সেবাব্যবস্থা এখনও অপ্রতুল।
সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ নার্সিং কলেজ ও বাংলাদেশ জেরিয়াট্রিক নার্সেস সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডিমেনশিয়া মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি, স্মৃতিশক্তি এবং ব্যক্তিত্বের ধরন পরিবর্তন করে দেয়। সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রিটায়ারমেন্ট হোমস অ্যান্ড হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সরদার এ. নাঈম বলেন, দেশে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগ, বিশেষ করে ডিমেনশিয়ার প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ডিমেনশিয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত এবং মানসম্মত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকটের কথা উল্লেখ করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. শফিকুল বারী। তিনি ডিমেনশিয়ার কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, আধুনিক চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পরিবারভিত্তিক সেবা এবং প্রশিক্ষিত নার্সিং জনবলের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। প্লেনারি সেশনে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডভাইজর অধ্যাপক ড. জি. ইউ. আহসান, অধ্যাপক হালিদা হানুম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. বাশিদুল ইসলামসহ প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা ও ডিমেনশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে এই গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 

























