দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ভারি বর্ষণ ও ভারতের উজানের ঢলের কারণে তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, যেকোনো সময় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে, ফের বন্যার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তিস্তাপাড়ের সাধারণ মানুষ।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর ফলে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গামারি, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার গুড্ডিমারী ইউনিয়নের সোফিয়ার রহমান জানান, নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং গ্রামীণ সড়কে পানি উঠতে শুরু করেছে। অনেক পরিবার তাদের গবাদি পশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যেকোনো সময় বিপদসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানির লেভেল পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল ৬টায় পানি বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল এবং পানি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল যেকোনো সময় প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পানির চাপ বাড়ার কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদীতীরবর্তী উঁচু সড়কগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এসব বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে বর্ষাকালে জরুরি মেরামতের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়, যা টেকসই নয়। আগেভাগে সংস্কার করা হলে বাঁধ আরও মজবুত হতো এবং নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো যেত।
রিপোর্টারের নাম 



















