ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবিলায় একুশের চেতনা ধারণের আহ্বান

বাংলাদেশ সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেছেন, আধিপত্যবাদী ভারত সব দিক থেকে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আমাদের ওপর চালিয়ে যাচ্ছে। এই আগ্রাসন মোকাবিলা করার জন্য আমাদের একুশের চেতনা ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ভারত তাদের শক্তিশালী স্যাটেলাইট টিভি, হিন্দি চলচ্চিত্র এবং বিশাল বাণিজ্যিক বাজারের মাধ্যমে এই আগ্রাসন চালাচ্ছে। ভারত সরাসরি আমাদের দেশ দখল না করলেও, তারা আমাদের ২০ কোটি লোকের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। আর এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সংস্কৃতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

বুধবার বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধবিষয়ক’ সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সৈয়দ আবদাল আহমদ আরও বলেন, নিজের অস্তিত্ব চেনার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো তার সাংস্কৃতিক পরিচয়। সাংস্কৃতিক পরিচয় মানুষকে তার দেশ, তার পূর্বপুরুষদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত করে। নিজের সংস্কৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে মানুষ হীনম্মন্যতায় ভোগে না এবং যেকোনো সম্পর্কে, যেকোনো সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। ফলে নিজস্ব সাহিত্য, শিল্পকলা, লোকসংগীত প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

তিনি বলেন, নিজস্ব অস্তিত্ব, জাতীয় পরিচয় এবং নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা জরুরি। কারণ, কোনো যুদ্ধ বা রক্তপাত ছাড়াই একটি দেশের সমাজব্যবস্থাকে মানসিকভাবে এবং সরাসরি পরাধীন করে ফেলার সবচেয়ে সুস্পষ্ট হাতিয়ার হলো সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। যখন বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে মানুষ নিজের ঐতিহ্য ভুলতে শুরু করে, তখন জাতির নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে যায়। আগ্রাসনের ফলে নিজের মাতৃভাষার চেয়ে বিদেশি ভাষার ব্যবহারকে আধুনিকতার প্রতীক মনে করা হয়। তাই যেকোনো মূল্যে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা আবশ্যক।

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা বলেন, উন্নত দেশ বা আধিপত্য শক্তি অনেক সময় অনুন্নত দেশ বা ছোট দেশগুলোকে তাদের ব্যবসায় ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে সংস্কৃতিকে ব্যবহার করে। নতুন প্রজন্মকে নিজেদের বীরত্বগাথা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বেশি বেশি করে জানাতে ও শেখাতে হবে। এটা করতে না পারলে তারা বিদেশি সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হবে এবং একসময় দেখা যাবে আমাদের মানুষ দেশপ্রেমহীন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলেও আমাদের মাতৃভাষা ও জাতিগত আত্মপরিচয়ের ওপর রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামে পাউবোর বাঁধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবিলায় একুশের চেতনা ধারণের আহ্বান

আপডেট সময় : ০১:৩৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেছেন, আধিপত্যবাদী ভারত সব দিক থেকে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আমাদের ওপর চালিয়ে যাচ্ছে। এই আগ্রাসন মোকাবিলা করার জন্য আমাদের একুশের চেতনা ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ভারত তাদের শক্তিশালী স্যাটেলাইট টিভি, হিন্দি চলচ্চিত্র এবং বিশাল বাণিজ্যিক বাজারের মাধ্যমে এই আগ্রাসন চালাচ্ছে। ভারত সরাসরি আমাদের দেশ দখল না করলেও, তারা আমাদের ২০ কোটি লোকের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। আর এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সংস্কৃতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

বুধবার বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধবিষয়ক’ সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সৈয়দ আবদাল আহমদ আরও বলেন, নিজের অস্তিত্ব চেনার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো তার সাংস্কৃতিক পরিচয়। সাংস্কৃতিক পরিচয় মানুষকে তার দেশ, তার পূর্বপুরুষদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত করে। নিজের সংস্কৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে মানুষ হীনম্মন্যতায় ভোগে না এবং যেকোনো সম্পর্কে, যেকোনো সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। ফলে নিজস্ব সাহিত্য, শিল্পকলা, লোকসংগীত প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

তিনি বলেন, নিজস্ব অস্তিত্ব, জাতীয় পরিচয় এবং নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা জরুরি। কারণ, কোনো যুদ্ধ বা রক্তপাত ছাড়াই একটি দেশের সমাজব্যবস্থাকে মানসিকভাবে এবং সরাসরি পরাধীন করে ফেলার সবচেয়ে সুস্পষ্ট হাতিয়ার হলো সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। যখন বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে মানুষ নিজের ঐতিহ্য ভুলতে শুরু করে, তখন জাতির নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে যায়। আগ্রাসনের ফলে নিজের মাতৃভাষার চেয়ে বিদেশি ভাষার ব্যবহারকে আধুনিকতার প্রতীক মনে করা হয়। তাই যেকোনো মূল্যে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা আবশ্যক।

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা বলেন, উন্নত দেশ বা আধিপত্য শক্তি অনেক সময় অনুন্নত দেশ বা ছোট দেশগুলোকে তাদের ব্যবসায় ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে সংস্কৃতিকে ব্যবহার করে। নতুন প্রজন্মকে নিজেদের বীরত্বগাথা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বেশি বেশি করে জানাতে ও শেখাতে হবে। এটা করতে না পারলে তারা বিদেশি সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হবে এবং একসময় দেখা যাবে আমাদের মানুষ দেশপ্রেমহীন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলেও আমাদের মাতৃভাষা ও জাতিগত আত্মপরিচয়ের ওপর রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন হয়েছিল।