ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা: শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা ও ছাত্রশিবিরের প্রতিরোধ

২০২৪ সালের ১৫ জুলাই, সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা রক্তাক্ত হন। ছাত্রীদের ওপরও চালানো হয় নৃশংস হামলা, যার ফলে বহু শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা ইসলাম তন্বী এবং ছাত্রশিবিরের সদস্য শাহেদসহ আরও অনেকে ছিলেন। এই হামলার ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সারা দেশে ক্ষোভ ও প্রতিরোধের জন্ম দেয়।

ছাত্রলীগের ধারণা ছিল, এই হামলার মাধ্যমে আন্দোলন স্তব্ধ করে দেওয়া যাবে। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি যে, এই ঘটনাই তাদের পতনের সূচনা করবে। সেদিন গাজীপুরে ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন শাখার পরামর্শ সভার সদস্যদের নিয়ে একটি স্টাডি সার্কেল অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি শুরু থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খবর নিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ঘোষণা দেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ফয়সালা হয়ে গেছে, হাসিনার বিদায় নিশ্চিত।’ সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রোগ্রাম সমাপ্ত করে উপস্থিত পরামর্শ সভার সদস্যদের দ্রুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার নির্দেশ দেন।

কেন্দ্রীয় সভাপতির নির্দেশনা পেয়ে তৎকালীন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ এবং প্রকাশনা সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, তৎকালীন মহানগর সভাপতি মোজাফফরকে বাছাইকৃত জনশক্তিদের নিয়ে দ্রুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, তৎকালীন ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সভাপতি মোজাফফর হোসেন, মহানগর পূর্বের তৎকালীন সেক্রেটারি আসিফ আব্দুল্লাহকে বাছাইকৃত সকল জনশক্তিকে দ্রুত প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে, মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে বাছাইকৃত জনশক্তিদের খবর পৌঁছে দেওয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই চানখাঁরপুল এলাকায় ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার কয়েকশ নেতাকর্মী একত্র হন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সভাপতি ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে আরও একটি গ্রুপ। এভাবেই ঢাকা কলেজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ঢাকা মহানগর পশ্চিম এবং ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘিরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামে পাউবোর বাঁধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা: শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা ও ছাত্রশিবিরের প্রতিরোধ

আপডেট সময় : ০১:৩০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের ১৫ জুলাই, সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা রক্তাক্ত হন। ছাত্রীদের ওপরও চালানো হয় নৃশংস হামলা, যার ফলে বহু শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা ইসলাম তন্বী এবং ছাত্রশিবিরের সদস্য শাহেদসহ আরও অনেকে ছিলেন। এই হামলার ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সারা দেশে ক্ষোভ ও প্রতিরোধের জন্ম দেয়।

ছাত্রলীগের ধারণা ছিল, এই হামলার মাধ্যমে আন্দোলন স্তব্ধ করে দেওয়া যাবে। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি যে, এই ঘটনাই তাদের পতনের সূচনা করবে। সেদিন গাজীপুরে ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন শাখার পরামর্শ সভার সদস্যদের নিয়ে একটি স্টাডি সার্কেল অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি শুরু থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খবর নিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ঘোষণা দেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ফয়সালা হয়ে গেছে, হাসিনার বিদায় নিশ্চিত।’ সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রোগ্রাম সমাপ্ত করে উপস্থিত পরামর্শ সভার সদস্যদের দ্রুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার নির্দেশ দেন।

কেন্দ্রীয় সভাপতির নির্দেশনা পেয়ে তৎকালীন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ এবং প্রকাশনা সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, তৎকালীন মহানগর সভাপতি মোজাফফরকে বাছাইকৃত জনশক্তিদের নিয়ে দ্রুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, তৎকালীন ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সভাপতি মোজাফফর হোসেন, মহানগর পূর্বের তৎকালীন সেক্রেটারি আসিফ আব্দুল্লাহকে বাছাইকৃত সকল জনশক্তিকে দ্রুত প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে, মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে বাছাইকৃত জনশক্তিদের খবর পৌঁছে দেওয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই চানখাঁরপুল এলাকায় ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার কয়েকশ নেতাকর্মী একত্র হন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সভাপতি ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে আরও একটি গ্রুপ। এভাবেই ঢাকা কলেজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ঢাকা মহানগর পশ্চিম এবং ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘিরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়।