ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে আগস্টে প্রশাসক প্রত্যাহার, নীতিগত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের

বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে এই ব্যাংকগুলো থেকে প্রশাসকদের তুলে নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহেই এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহার করা হতে পারে।

গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এক বৈঠকে এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে। এর আগে, গত রবিবার গভর্নর পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছিলেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছে, প্রশাসকদের আরও কিছুদিন বহাল রাখা উচিত।

সূত্র জানায়, বৈঠকে পাঁচ ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রশাসক প্রত্যাহারের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এটি একযোগে নয়, বরং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। আগস্টের মধ্যেই প্রক্রিয়াটি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের একটি অংশ এখনই প্রশাসক প্রত্যাহারের পক্ষে নন। কারণ একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকে এখনো কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকদের সমস্ত তথ্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা হবে, যা একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসকরা এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের মাধ্যমেই কাজটি শেষ হলে তা আরও কার্যকর হবে বলে তারা মনে করছেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রম সাধারণ ব্যাংকের তুলনায় ভিন্ন ধরনের। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের জন্য ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান অবস্থা, চলমান সংস্কার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশাসকদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই প্রশাসক প্রত্যাহারের আগে চলমান সংস্কার কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেটা এআই চ্যাটে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পেলে অভিভাবক ও জরুরি সেবার কাছে বার্তা যাবে

একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে আগস্টে প্রশাসক প্রত্যাহার, নীতিগত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের

আপডেট সময় : ১১:১৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে এই ব্যাংকগুলো থেকে প্রশাসকদের তুলে নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহেই এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহার করা হতে পারে।

গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এক বৈঠকে এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে। এর আগে, গত রবিবার গভর্নর পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছিলেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছে, প্রশাসকদের আরও কিছুদিন বহাল রাখা উচিত।

সূত্র জানায়, বৈঠকে পাঁচ ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রশাসক প্রত্যাহারের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এটি একযোগে নয়, বরং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। আগস্টের মধ্যেই প্রক্রিয়াটি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের একটি অংশ এখনই প্রশাসক প্রত্যাহারের পক্ষে নন। কারণ একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকে এখনো কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকদের সমস্ত তথ্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা হবে, যা একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসকরা এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের মাধ্যমেই কাজটি শেষ হলে তা আরও কার্যকর হবে বলে তারা মনে করছেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রম সাধারণ ব্যাংকের তুলনায় ভিন্ন ধরনের। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের জন্য ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান অবস্থা, চলমান সংস্কার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশাসকদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই প্রশাসক প্রত্যাহারের আগে চলমান সংস্কার কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত।