ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ভোলা রক্ষায় ৬০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প: ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

ভয়াবহ মেঘনা নদীর গ্রাস থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া এবং মেদুয়া এলাকাকে রক্ষা করতে একটি বিশাল প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উঠছে। প্রায় ৬৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো নদীতীর সংরক্ষণ, উপকূলীয় বাঁধের পুনর্বাসন, বাঁধের ঢাল সুরক্ষা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানো।

প্রকল্পটি একনেকে ওঠার আগেই পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) এর ব্যয় নিয়ে আপত্তি জানায়। মাত্র চার কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণে ৫০৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয়কে অত্যন্ত বেশি বলে মন্তব্য করে পিইসি ব্যয় পুনঃযাচাইয়ের নির্দেশ দেয়। পরে কিছু খাত বাদ দিয়ে ব্যয় কমিয়ে ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি বাঁধ পুনর্বাসন, ঢাল সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশন কাঠামো নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও ক্রয় পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংশোধনী এনে পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আগামী মার্চ থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মেঘনা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর ভোলার বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হচ্ছে। বর্তমানে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ও ধনিয়া ইউনিয়ন এবং দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের প্রায় চার কিলোমিটার অরক্ষিত অংশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, অতি জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়জনিত জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ছয় কিলোমিটার মাটির বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পোল্ডারের ভেতরে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে, যা কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার, বসতভিটাসহ বিভিন্ন স্থাপনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এ অবস্থায় নদীতীর সংরক্ষণ, উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, ঢাল সুরক্ষা এবং দুটি পানি নিষ্কাশন কাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরে একাধিক মামলার আসামি যুবলীগ নেতা নাঈম খান গ্রেপ্তার

ভোলা রক্ষায় ৬০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প: ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০১:১৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ভয়াবহ মেঘনা নদীর গ্রাস থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া এবং মেদুয়া এলাকাকে রক্ষা করতে একটি বিশাল প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উঠছে। প্রায় ৬৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো নদীতীর সংরক্ষণ, উপকূলীয় বাঁধের পুনর্বাসন, বাঁধের ঢাল সুরক্ষা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানো।

প্রকল্পটি একনেকে ওঠার আগেই পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) এর ব্যয় নিয়ে আপত্তি জানায়। মাত্র চার কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণে ৫০৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয়কে অত্যন্ত বেশি বলে মন্তব্য করে পিইসি ব্যয় পুনঃযাচাইয়ের নির্দেশ দেয়। পরে কিছু খাত বাদ দিয়ে ব্যয় কমিয়ে ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি বাঁধ পুনর্বাসন, ঢাল সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশন কাঠামো নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও ক্রয় পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংশোধনী এনে পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আগামী মার্চ থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মেঘনা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর ভোলার বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হচ্ছে। বর্তমানে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ও ধনিয়া ইউনিয়ন এবং দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের প্রায় চার কিলোমিটার অরক্ষিত অংশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, অতি জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়জনিত জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ছয় কিলোমিটার মাটির বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পোল্ডারের ভেতরে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে, যা কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার, বসতভিটাসহ বিভিন্ন স্থাপনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এ অবস্থায় নদীতীর সংরক্ষণ, উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, ঢাল সুরক্ষা এবং দুটি পানি নিষ্কাশন কাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।