ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ডা. সজিব: ‘জালেমকে ধ্বংস করুন’ প্রার্থনার শেষ আর্তি

জুলাই বিপ্লবের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে নরসিংদীর বাসা থেকে রাজধানীতে এসেছিলেন তরুণ চিকিৎসক সজিব সরকার। ব্রহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের প্রভাষক এই ত্রিশ বছর বয়সী চিকিৎসক উত্তরার সড়কে আন্দোলনকারীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিচ্ছিলেন। গুলিবিদ্ধ ছাত্র-জনতাকে হাসপাতালে পাঠানোর কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি।

উত্তরা আজমপুর ওভার ব্রিজের নিচে আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ডা. সজিব। মেডিকেলে নেওয়ার পথেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ হালিম সরকার ও ছোট বোন সুমাইয়া সরকার স্বর্ণা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা এবং নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের গুলি করে হত্যার ঘটনা ডা. সজিবকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। এই ক্ষোভ থেকেই তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। শহীদ হওয়ার দিন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে লেখেন, ‘হে আল্লাহ আপনি সহায় হোন, আমিন। জালেমকে ধ্বংস করুন, জালেমের ধ্বংসকে ত্বরান্বিত করুন, আমিন’। এরপর তিনি ওইদিন দেশব্যাপী ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

সেদিন সকালে ফজরের নামাজ আদায় করে ডা. সজিব তাঁর অসুস্থ মা ঝর্ণা বেগমের সঙ্গে নাস্তা করেন। এরপর বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মায়ের হাতে চার হাজার টাকা দিয়ে প্রয়োজনে খরচ করতে বলেন এবং কপালে চুমু দিয়ে বের হন। কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে মাকে মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছোট ভাই আব্দুল্লাহ সরকারকে নিতে যাচ্ছেন বলে জানান। দরজার সামনে গিয়ে মেজো ভাইয়ের স্ত্রীকে ডেকে মাকে দেখে রাখতে বলেন। এরপর চলে যাওয়ার সময় তিনবার মাকে ডেকে বিদায় জানিয়েছিলেন তিনি।

সেদিন উত্তরার আন্দোলনে ডা. সজিবের ছোট বোন সুমাইয়া সরকার স্বর্ণাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, তিনি উত্তরা আজমপুর-বিএনএস সেন্টারের মধ্যবর্তী স্থানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ পেছন থেকে ভাইয়ের কণ্ঠ শুনতে পান তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরে একাধিক মামলার আসামি যুবলীগ নেতা নাঈম খান গ্রেপ্তার

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ডা. সজিব: ‘জালেমকে ধ্বংস করুন’ প্রার্থনার শেষ আর্তি

আপডেট সময় : ০১:১৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে নরসিংদীর বাসা থেকে রাজধানীতে এসেছিলেন তরুণ চিকিৎসক সজিব সরকার। ব্রহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের প্রভাষক এই ত্রিশ বছর বয়সী চিকিৎসক উত্তরার সড়কে আন্দোলনকারীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিচ্ছিলেন। গুলিবিদ্ধ ছাত্র-জনতাকে হাসপাতালে পাঠানোর কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি।

উত্তরা আজমপুর ওভার ব্রিজের নিচে আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ডা. সজিব। মেডিকেলে নেওয়ার পথেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ হালিম সরকার ও ছোট বোন সুমাইয়া সরকার স্বর্ণা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা এবং নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের গুলি করে হত্যার ঘটনা ডা. সজিবকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। এই ক্ষোভ থেকেই তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। শহীদ হওয়ার দিন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে লেখেন, ‘হে আল্লাহ আপনি সহায় হোন, আমিন। জালেমকে ধ্বংস করুন, জালেমের ধ্বংসকে ত্বরান্বিত করুন, আমিন’। এরপর তিনি ওইদিন দেশব্যাপী ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

সেদিন সকালে ফজরের নামাজ আদায় করে ডা. সজিব তাঁর অসুস্থ মা ঝর্ণা বেগমের সঙ্গে নাস্তা করেন। এরপর বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মায়ের হাতে চার হাজার টাকা দিয়ে প্রয়োজনে খরচ করতে বলেন এবং কপালে চুমু দিয়ে বের হন। কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে মাকে মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছোট ভাই আব্দুল্লাহ সরকারকে নিতে যাচ্ছেন বলে জানান। দরজার সামনে গিয়ে মেজো ভাইয়ের স্ত্রীকে ডেকে মাকে দেখে রাখতে বলেন। এরপর চলে যাওয়ার সময় তিনবার মাকে ডেকে বিদায় জানিয়েছিলেন তিনি।

সেদিন উত্তরার আন্দোলনে ডা. সজিবের ছোট বোন সুমাইয়া সরকার স্বর্ণাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, তিনি উত্তরা আজমপুর-বিএনএস সেন্টারের মধ্যবর্তী স্থানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ পেছন থেকে ভাইয়ের কণ্ঠ শুনতে পান তিনি।