ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

আঞ্চলিক সংঘাত সত্ত্বেও পূর্ণ সক্ষমতায় সচল দুবাই বিমানবন্দর

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক আকাশপথে বিভিন্ন বিধিনিষেধ সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। দুবাই এয়ারপোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পল গ্রিফিথস জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং যাত্রী চলাচলেও কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।

ফার্নবরো আন্তর্জাতিক এয়ারশোর সাইডলাইনে ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রিফিথস বলেন, সকালে বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন, সব ধরনের সেবা স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিমানবন্দরটি “স্বাভাবিক সময়ের মতোই ব্যস্ত” ছিল।

গ্রিফিথস জানান, এমিরেটস এয়ারলাইন বর্তমানে তাদের নিয়মিত ফ্লাইট সূচির ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পরিচালনা করছে। উত্তরাঞ্চলের কিছু আকাশপথে বিধিনিষেধ থাকলেও সৌদি আরবের আকাশসীমা ও দক্ষিণাঞ্চলীয় বিকল্প রুট ব্যবহার করে নিরাপদ ও কার্যকরভাবে ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হয়েছে। ইরান ও ইরাকের আকাশসীমা পুরোপুরি খুলে না দেওয়া পর্যন্ত এসব বিকল্প রুট ব্যবহার অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক সংকট শুরুর পর থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মিলিয়ে ৬০ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। একই সময়ে ৩২ হাজারের বেশি উড়োজাহাজ ওঠানামা করেছে এবং ২ লাখ ১৩ হাজার টনেরও বেশি কার্গো পরিবহন করা হয়েছে। গ্রিফিথসের মতে, এই পরিসংখ্যান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দুবাইয়ের বিমান চলাচল অবকাঠামোর সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ বহন করে।

বর্তমানে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৫০টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস পরিচালনা করছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। তবে এমিরেটসের অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার ফলে সক্ষমতার ঘাটতির বড় একটি অংশ পূরণ হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ বিদেশি এয়ারলাইন ধীরে ধীরে তাদের সেবা পুনরায় চালু করছে। তবে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও এয়ার ফ্রান্সের মতো কয়েকটি বড় ইউরোপীয় এয়ারলাইনের সেবা পুনরায় শুরুতে বিলম্ব হচ্ছে, যা মূলত সংশ্লিষ্ট সরকারের ভ্রমণ নির্দেশনা ও বিমা-সংক্রান্ত শর্তের কারণে। এর সঙ্গে দুবাই বিমানবন্দরের পরিচালনাগত কোনো সমস্যা জড়িত নয় বলে স্পষ্ট করেন গ্রিফিথস।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজারে আসার আগেই ফাঁস হলো গুগল পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর নকশা ও ফিচার

আঞ্চলিক সংঘাত সত্ত্বেও পূর্ণ সক্ষমতায় সচল দুবাই বিমানবন্দর

আপডেট সময় : ১১:২১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক আকাশপথে বিভিন্ন বিধিনিষেধ সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। দুবাই এয়ারপোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পল গ্রিফিথস জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং যাত্রী চলাচলেও কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।

ফার্নবরো আন্তর্জাতিক এয়ারশোর সাইডলাইনে ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রিফিথস বলেন, সকালে বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন, সব ধরনের সেবা স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিমানবন্দরটি “স্বাভাবিক সময়ের মতোই ব্যস্ত” ছিল।

গ্রিফিথস জানান, এমিরেটস এয়ারলাইন বর্তমানে তাদের নিয়মিত ফ্লাইট সূচির ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পরিচালনা করছে। উত্তরাঞ্চলের কিছু আকাশপথে বিধিনিষেধ থাকলেও সৌদি আরবের আকাশসীমা ও দক্ষিণাঞ্চলীয় বিকল্প রুট ব্যবহার করে নিরাপদ ও কার্যকরভাবে ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হয়েছে। ইরান ও ইরাকের আকাশসীমা পুরোপুরি খুলে না দেওয়া পর্যন্ত এসব বিকল্প রুট ব্যবহার অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক সংকট শুরুর পর থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মিলিয়ে ৬০ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। একই সময়ে ৩২ হাজারের বেশি উড়োজাহাজ ওঠানামা করেছে এবং ২ লাখ ১৩ হাজার টনেরও বেশি কার্গো পরিবহন করা হয়েছে। গ্রিফিথসের মতে, এই পরিসংখ্যান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দুবাইয়ের বিমান চলাচল অবকাঠামোর সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ বহন করে।

বর্তমানে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৫০টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস পরিচালনা করছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। তবে এমিরেটসের অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার ফলে সক্ষমতার ঘাটতির বড় একটি অংশ পূরণ হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ বিদেশি এয়ারলাইন ধীরে ধীরে তাদের সেবা পুনরায় চালু করছে। তবে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও এয়ার ফ্রান্সের মতো কয়েকটি বড় ইউরোপীয় এয়ারলাইনের সেবা পুনরায় শুরুতে বিলম্ব হচ্ছে, যা মূলত সংশ্লিষ্ট সরকারের ভ্রমণ নির্দেশনা ও বিমা-সংক্রান্ত শর্তের কারণে। এর সঙ্গে দুবাই বিমানবন্দরের পরিচালনাগত কোনো সমস্যা জড়িত নয় বলে স্পষ্ট করেন গ্রিফিথস।