ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের বার্তা: আস্থা ও ঐক্যের আহ্বান

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। সোমবার (২০ জুলাই) বাকিংহাম প্যালেসে রাজার আমন্ত্রণ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠন করেন তিনি। দায়িত্বের শুরুতেই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় গত চার দশকের সবচেয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম ভাষণে বার্নহাম বলেন, গত এক দশকে বারবার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের কারণে জনগণের মধ্যে রাজনীতির প্রতি আস্থা কমেছে এবং অনেকেই হতাশ ও বিরক্ত হয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন, সরকারগুলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণে যথেষ্ট সফল হয়নি এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা শুধু লন্ডনকেন্দ্রিক না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল পর্যন্ত বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর সরকারের তদারকি আরও শক্তিশালী করে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সরকারি আবাসন নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশের উন্নয়নের জন্য একটি ১০ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে বলেও জানান। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট মোকাবিলায় বিলম্ব না করে আগামীকাল থেকেই কিছু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে গৃহহীনতা এবং রাস্তায় রাত কাটানোর সমস্যা দূর করার ঘোষণা দেন বার্নহাম। ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশের আগে তিনি দেশবাসীর প্রতি বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন আস্থা ও আশার ভিত্তিতে ব্রিটেনকে এগিয়ে নেওয়ার সময় এখনই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজারে আসার আগেই ফাঁস হলো গুগল পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর নকশা ও ফিচার

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের বার্তা: আস্থা ও ঐক্যের আহ্বান

আপডেট সময় : ০৯:৩২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। সোমবার (২০ জুলাই) বাকিংহাম প্যালেসে রাজার আমন্ত্রণ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠন করেন তিনি। দায়িত্বের শুরুতেই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় গত চার দশকের সবচেয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম ভাষণে বার্নহাম বলেন, গত এক দশকে বারবার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের কারণে জনগণের মধ্যে রাজনীতির প্রতি আস্থা কমেছে এবং অনেকেই হতাশ ও বিরক্ত হয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন, সরকারগুলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণে যথেষ্ট সফল হয়নি এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা শুধু লন্ডনকেন্দ্রিক না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল পর্যন্ত বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর সরকারের তদারকি আরও শক্তিশালী করে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সরকারি আবাসন নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশের উন্নয়নের জন্য একটি ১০ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে বলেও জানান। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট মোকাবিলায় বিলম্ব না করে আগামীকাল থেকেই কিছু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে গৃহহীনতা এবং রাস্তায় রাত কাটানোর সমস্যা দূর করার ঘোষণা দেন বার্নহাম। ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশের আগে তিনি দেশবাসীর প্রতি বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন আস্থা ও আশার ভিত্তিতে ব্রিটেনকে এগিয়ে নেওয়ার সময় এখনই।