ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

শহীদ সুমাইয়ার শিশুকন্যার দুই বছর পরও মেলেনি কোনো অভিভাবক

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সুমাইয়া আক্তার (১৯)। তার মৃত্যুর দুই বছর পার হলেও তাঁর একমাত্র শিশুকন্যা সোয়াইবার দায়িত্ব কেউ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সুমাইয়ার রেখে যাওয়া দুই বছর বয়সী এই কন্যা এখন তার নানি আসমা বেগমের কাছে রয়েছে। অভাব-অনটনের সংসারে নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে আসমা বেগমের। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে তাঁর নাতনির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা গেছে, আসমা বেগমের দুই ছেলে সজল ও শাকিল। সজল একটি কার্টনের কারখানায় এবং শাকিল একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তাঁদের আরেক ছেলে মাদরাসায় পড়াশোনা করে। দুই ছেলের সীমিত আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছোট ছেলের পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে আসমা বেগমকে। এর মধ্যে শাকিল খিচুনি রোগে আক্রান্ত। সুমাইয়া শহীদ হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় আসমা বেগম প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আসমা বেগম জানান, সুমাইয়া শহীদ হওয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে খোঁজখবর নিয়েছিলেন এবং ১০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছিলেন। জামায়াতের নেতাকর্মীরাও সহযোগিতা করেছিলেন এবং এখনো খোঁজখবর নেন। কিন্তু তাঁর নাতনির ভবিষ্যতের দায়িত্ব কেউ নেয়নি। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর পর মা-হারা নাতনির ভবিষ্যতের জন্য যেন একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়।

এ ঘটনায় সুমাইয়ার ভগ্নিপতি মো. বিল্লাল বাদী হয়ে হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে সুমাইয়ার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর মাত্র আড়াই মাস আগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তান সোয়াইবার জন্ম দেন সুমাইয়া। সন্তান জন্মের পর অস্ত্রোপচারের ক্ষত পুরোপুরি শুকানোর আগেই তিনি গুলিবিদ্ধ হন। দ্রুত স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাটহাজারীর আনন্দবাজার সেতু: দুই বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণ, জনদুর্ভোগ চরমে

শহীদ সুমাইয়ার শিশুকন্যার দুই বছর পরও মেলেনি কোনো অভিভাবক

আপডেট সময় : ১১:৫৫:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সুমাইয়া আক্তার (১৯)। তার মৃত্যুর দুই বছর পার হলেও তাঁর একমাত্র শিশুকন্যা সোয়াইবার দায়িত্ব কেউ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সুমাইয়ার রেখে যাওয়া দুই বছর বয়সী এই কন্যা এখন তার নানি আসমা বেগমের কাছে রয়েছে। অভাব-অনটনের সংসারে নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে আসমা বেগমের। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে তাঁর নাতনির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা গেছে, আসমা বেগমের দুই ছেলে সজল ও শাকিল। সজল একটি কার্টনের কারখানায় এবং শাকিল একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তাঁদের আরেক ছেলে মাদরাসায় পড়াশোনা করে। দুই ছেলের সীমিত আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছোট ছেলের পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে আসমা বেগমকে। এর মধ্যে শাকিল খিচুনি রোগে আক্রান্ত। সুমাইয়া শহীদ হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় আসমা বেগম প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আসমা বেগম জানান, সুমাইয়া শহীদ হওয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে খোঁজখবর নিয়েছিলেন এবং ১০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছিলেন। জামায়াতের নেতাকর্মীরাও সহযোগিতা করেছিলেন এবং এখনো খোঁজখবর নেন। কিন্তু তাঁর নাতনির ভবিষ্যতের দায়িত্ব কেউ নেয়নি। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর পর মা-হারা নাতনির ভবিষ্যতের জন্য যেন একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়।

এ ঘটনায় সুমাইয়ার ভগ্নিপতি মো. বিল্লাল বাদী হয়ে হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে সুমাইয়ার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর মাত্র আড়াই মাস আগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তান সোয়াইবার জন্ম দেন সুমাইয়া। সন্তান জন্মের পর অস্ত্রোপচারের ক্ষত পুরোপুরি শুকানোর আগেই তিনি গুলিবিদ্ধ হন। দ্রুত স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।