ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

টেকনাফে কিশোর আরফাত অপহরণ, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি; এলাকায় আতঙ্ক

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর এলাকায় মো. আরফাত (১৩) নামে এক কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। এই ঘটনার পর থেকে আরফাতের পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে কিশোরকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে আরফাত শামলাপুর এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে মহিষ আনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় এবং আর বাড়ি ফেরেনি। আরফাত শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মাবুদের ছেলে।

আরফাতের বাবা আব্দুল মাবুদ সাংবাদিকদের জানান, শনিবার একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয় যে তার ছেলে অপহরণকারীদের কাছে রয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত চাইলে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। অন্যথায় তাকে আর জীবিত পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “আমি একজন সাধারণ মানুষ। এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই আবেদন, আমার ছেলেকে যেন দ্রুত জীবিত উদ্ধার করা হয়।”

ঘটনার পর থেকে আরফাতের মা ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত কিশোরকে নিরাপদে উদ্ধারের পাশাপাশি অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবু সাঈদ বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিউল কাদের কালু বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অপহৃত কিশোরকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপহরণকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে।

উল্লেখ্য, গত দেড় বছরে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫০ জনের বেশি মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন, তবে বেশ কয়েকজনের লাশও উদ্ধার করা হয়েছে। পাহাড়ে গবাদিপশু চরাতে যাওয়া মানুষ, ক্ষেত-খামারের কৃষক, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহকারী এবং সাধারণ পথচারী, ডাক্তার, দোকানদার, শিক্ষক – কেউই অপহরণকারীদের হাত থেকে বাদ যাচ্ছেন না। ফলে সীমান্তের উপকূলীয় জনপদ বাহারছড়া ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজুড়ে ফেসবুকের ডেস্কটপ ভার্সনে বিভ্রাট: ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা

টেকনাফে কিশোর আরফাত অপহরণ, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি; এলাকায় আতঙ্ক

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর এলাকায় মো. আরফাত (১৩) নামে এক কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। এই ঘটনার পর থেকে আরফাতের পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে কিশোরকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে আরফাত শামলাপুর এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে মহিষ আনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় এবং আর বাড়ি ফেরেনি। আরফাত শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মাবুদের ছেলে।

আরফাতের বাবা আব্দুল মাবুদ সাংবাদিকদের জানান, শনিবার একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয় যে তার ছেলে অপহরণকারীদের কাছে রয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত চাইলে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। অন্যথায় তাকে আর জীবিত পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “আমি একজন সাধারণ মানুষ। এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই আবেদন, আমার ছেলেকে যেন দ্রুত জীবিত উদ্ধার করা হয়।”

ঘটনার পর থেকে আরফাতের মা ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত কিশোরকে নিরাপদে উদ্ধারের পাশাপাশি অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবু সাঈদ বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিউল কাদের কালু বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অপহৃত কিশোরকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপহরণকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে।

উল্লেখ্য, গত দেড় বছরে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫০ জনের বেশি মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন, তবে বেশ কয়েকজনের লাশও উদ্ধার করা হয়েছে। পাহাড়ে গবাদিপশু চরাতে যাওয়া মানুষ, ক্ষেত-খামারের কৃষক, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহকারী এবং সাধারণ পথচারী, ডাক্তার, দোকানদার, শিক্ষক – কেউই অপহরণকারীদের হাত থেকে বাদ যাচ্ছেন না। ফলে সীমান্তের উপকূলীয় জনপদ বাহারছড়া ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।