বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বরাবরই বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। চীন বাংলাদেশকে কেবল একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়, বরং একটি বিশ্বস্ত বন্ধু এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদানের সময় তিনি এ কথা বলেন। ডিএসসিএসসির ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট মো. আসাদুজ্জামানসহ অনুষ্ঠানে তিন শতাধিক সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের সামরিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে উভয় দেশ সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে একমত হয়েছে। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অংশীদার হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী। চীনের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন যে, বেইজিং সবসময় শান্তির নীতি অনুসরণ করে এবং আধিপত্য বিস্তার, সম্প্রসারণবাদ বা কোনো প্রভাব বলয় তৈরির প্রচেষ্টায় চীন বিশ্বাসী নয়। বরং একটি সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় চীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছে।
নিজের বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই), গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ (জিএসআই), গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ (জিসিআই) এবং গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ (জিজিআই)-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়তে বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় করেন। চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার এই গভীর সম্পর্ক ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















