বসনিয়ার সেব্রেনিৎসায় ১৯৯৫ সালের গণহত্যায় ভুক্তভোগী এক হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা আধুনিক ইউরোপের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। বসনিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এই গণহত্যা সংঘটিত হয়। যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর বসনীয়রা স্বাধীনতার দাবি জানালে স্থানীয় সার্ব জনগোষ্ঠীর সাথে বিরোধ দেখা দেয়, যা যুদ্ধের রূপ নেয়।
১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই আন্তর্জাতিক আদালতে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী রাতকো ম্লাদিচের নেতৃত্বে সার্ব বাহিনী জাতিসংঘ ঘোষিত নিরাপদ অঞ্চল সেব্রেনিৎসা দখল করে নেয়। শহর দখলের পর বসনীয় পুরুষ ও কিশোরদের আলাদা করে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিয়ে হত্যা করা হয়। ১১ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত টানা ১১ দিন ধরে চলা এই গণহত্যায় আনুমানিক আট হাজার ৩৭২ জন বসনীয় পুরুষ ও কিশোর নিহত হয়। মানবতাবিরোধী এই অপরাধ ঢাকতে সার্ব বাহিনী নিহতদের লাশ গণকবরে চাপা দেয়।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বসনীয় সরকার নিহতদের লাশের সন্ধান শুরু করে। গত ৩১ বছরে ৭৭টি গণকবরসহ ১৫০টি স্থান থেকে গণহত্যার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ বিশ্লেষণ ও ফরেনসিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। প্রতি বছর ১১ জুলাই বসনিয়ায় ‘সেব্রেনিৎসা গণহত্যা দিবস’ পালন করা হয় এবং ওই দিন শনাক্ত হওয়া লাশগুলো দাফন করা হয়। এ বছর নতুন ১০ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে।
সেব্রেনিৎসার গণহত্যার স্মারক কবরস্থানে এ পর্যন্ত ছয় হাজার ৭৮২ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে। এছাড়া আরো ২৫০ জনকে তাদের স্বজনদের অনুরোধে নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে। তবে, বিপুল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এখনো এক হাজারের বেশি ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি, যা তাদের স্বজনদের মাঝে গভীর শোক ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























