চ্যাটজিপিটি’র ভয়েস ফিচারে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। বৃহস্পতিবার উন্মোচিত নতুন ‘জিপিটি-লাইভ’ সিরিজের মডেলগুলোতে এমন প্রযুক্তি যোগ করা হয়েছে, যার ফলে ব্যবহারকারীরা এখন চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলার সময় যেকোনো মুহূর্তে তাকে থামিয়ে দিতে পারবেন বা মাঝপথে বাধা দিতে পারবেন। এমনকি এআই যদি খুব দ্রুত কথা বলে, তবে তাকে ধীর লয়ে বলার অনুরোধও করা যাবে। নতুন এই মডেলগুলো ‘ডুপ্লেক্স আর্কিটেকচার’ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর কথা শোনা ও নিজস্ব উত্তর তৈরি করার সক্ষমতা রাখে।
পুরানো ‘টার্ন-বেসড’ বা একজনের পর আরেকজনের কথা বলার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন এই মডেলগুলো মানুষের মতোই স্বাভাবিক আলাপচারিতা নিশ্চিত করবে। আলাপের সময় ব্যবহারকারীর কথা শুনছে বলে বোঝাতে মডেলটি মাঝেমধ্যে ‘হুম’ বা ‘বুঝতে পেরেছি’র মতো মৌখিক সম্মতি দেবে। এছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ডে অতিরিক্ত কোলাহল থাকলেও নতুন মডেলগুলো ব্যবহারকারীর কথায় আরও বেশি মনোযোগ দিতে সক্ষম। আলাপচারিতার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এআই নিজে থেকেই ওপেনএআই’র অন্যান্য মডেলের সহায়তা নিয়ে গাণিতিক যুক্তি, ওয়েব সার্চ বা জটিল তথ্য বিশ্লেষণের কাজও সম্পন্ন করতে পারবে।
চ্যাটজিপিটি ভয়েস ফিচারে আরও থাকছে ভিজুয়াল কার্ডের সুবিধা, যেখানে আবহাওয়া, খেলাধুলার খবর বা শেয়ার বাজারের তথ্য ছোট কার্ডের মতো স্ক্রিনে দেখা যাবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ওপেনএআই নিয়েছে কঠোর পদক্ষেপ। অনিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ কথোপকথন শনাক্ত হলে সিস্টেমটি তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দেবে অথবা আলাপ বন্ধ করে দেবে। এছাড়া টিনএজারদের সুরক্ষায় চালু করা হয়েছে বিশেষ ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোল’ ব্যবস্থা। যদি সিস্টেমটি বুঝতে পারে যে কোনো টিনএজার আত্মঘাতী বা নিজেকে ক্ষতির মতো কোনো বিষয়ে আলোচনা করছে, তবে অভিভাবককে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার থেকে অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস এবং ওয়েব সংস্করণের চ্যাটজিপিটিতে ফিচারটি ধাপে ধাপে চালু করা শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির ‘গো’, ‘প্লাস’ ও ‘প্রো’ সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীরা মূল ‘জিপিটি-লাইভ-১’ মডেলটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, আর ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য ডিফল্ট হিসেবে থাকবে ‘লাইভ-১ মিনি’ মডেল।
রিপোর্টারের নাম 

























