ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

তিস্তা ও ধরলার ভয়াল থাবায় লালমনিরহাটের চরাঞ্চল, ভাঙনের শিকার হাজারো মানুষ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলা নদীর ভয়াল গ্রাসে নদী তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। প্রতিদিনই আবাদি জমি, ঘরবাড়ি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষক পরিবারগুলো তাদের জীবিকা নির্বাহের শেষ সম্বলটুকুও হারাচ্ছেন।

সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের বুমকা, বনগ্রাম, শিবেরকুঠি, বাসুরিয়া এবং তিস্তা নদীর ভাঙনে লালমনিরহাটের কলেজপাড়া, ধুবনী, সিন্ধুর্ণা, পারুলিয়া, ডাউয়াবাড়ি, ভোটমারি, হরিণচড়া, রাজপুর, পাগলারহাট ও চিনাতলী এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নদী ভাঙনের কারণে তাদের জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বুমকা গ্রামের কৃষক আব্দার রহমান শেখ (৬৫) বলেন, ‘ধরলা নদী ভাঙতে ভাঙতে শুধু বসতভিটাটুকু বাকি। কীভাবে আমাদের আগামী দিনগুলো কাটবে, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।’ একই গ্রামের ভোলানাথ দেবনাথ (৬০) জানান, ‘ধরলার ভাঙনে একে একে পাঁচ বিঘা জমি চলে গেছে। বাকি জমিগুলোও এখন হুমকির মুখে। আমাদের সংসার একসময় সচ্ছল ছিল, কিন্তু এখন রাস্তায় উঠে আসার উপক্রম।’

মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কুটিরপাড় গ্রামের কৃষক আকবর আলী (৬৫) তিস্তার তীরে বসে কূল ভাঙার দৃশ্য দেখতে দেখতে তার পৈতৃক জমি হারানোর শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানি কমলেও ভাঙন বাড়ছে।’ সদর উপজেলার শিবেরকুঠি গ্রামের বিলকিছ বেগম (৩৫) জানান, ‘নদী ভাঙতে ভাঙতে আমাদের বাড়ি থেকে নদীর দূরত্ব মাত্র ২০ গজ। যেকোনো মুহূর্তে আমাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ধরলার ভাঙন ঠেকাতে না পারলে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।’

মোগলহাট ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের বাসিন্দা বাহার উদ্দিন (৫৫) মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কয়েক দিন আগে চোখের সামনেই বসতভিটা ধরলা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তিনি অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। তিস্তাপারের অলিমা খাতুন (৪৫) আহাজারি করে বলেন, ‘সব নদীত ভাঙিয়া গেইছে। আমরা কোথায় যাব, কী খাব? সব নদী ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে।’ অপর এক ভুক্তভোগী তসর উদ্দিন (৫০) জানান, ‘নদীর মাঝখানে আমার বাড়ি ছিল। বাড়ি ভাঙতে ভাঙতে আজ যেখানে বাড়ি দেখতেছেন, তার পাশ পর্যন্ত ভাঙন আসছে। আমার বাড়িটা যেকোনো সময় ভাঙতে পারে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে ড্রোন কারখানা

তিস্তা ও ধরলার ভয়াল থাবায় লালমনিরহাটের চরাঞ্চল, ভাঙনের শিকার হাজারো মানুষ

আপডেট সময় : ০১:৫৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলা নদীর ভয়াল গ্রাসে নদী তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। প্রতিদিনই আবাদি জমি, ঘরবাড়ি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষক পরিবারগুলো তাদের জীবিকা নির্বাহের শেষ সম্বলটুকুও হারাচ্ছেন।

সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের বুমকা, বনগ্রাম, শিবেরকুঠি, বাসুরিয়া এবং তিস্তা নদীর ভাঙনে লালমনিরহাটের কলেজপাড়া, ধুবনী, সিন্ধুর্ণা, পারুলিয়া, ডাউয়াবাড়ি, ভোটমারি, হরিণচড়া, রাজপুর, পাগলারহাট ও চিনাতলী এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নদী ভাঙনের কারণে তাদের জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বুমকা গ্রামের কৃষক আব্দার রহমান শেখ (৬৫) বলেন, ‘ধরলা নদী ভাঙতে ভাঙতে শুধু বসতভিটাটুকু বাকি। কীভাবে আমাদের আগামী দিনগুলো কাটবে, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।’ একই গ্রামের ভোলানাথ দেবনাথ (৬০) জানান, ‘ধরলার ভাঙনে একে একে পাঁচ বিঘা জমি চলে গেছে। বাকি জমিগুলোও এখন হুমকির মুখে। আমাদের সংসার একসময় সচ্ছল ছিল, কিন্তু এখন রাস্তায় উঠে আসার উপক্রম।’

মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কুটিরপাড় গ্রামের কৃষক আকবর আলী (৬৫) তিস্তার তীরে বসে কূল ভাঙার দৃশ্য দেখতে দেখতে তার পৈতৃক জমি হারানোর শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানি কমলেও ভাঙন বাড়ছে।’ সদর উপজেলার শিবেরকুঠি গ্রামের বিলকিছ বেগম (৩৫) জানান, ‘নদী ভাঙতে ভাঙতে আমাদের বাড়ি থেকে নদীর দূরত্ব মাত্র ২০ গজ। যেকোনো মুহূর্তে আমাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ধরলার ভাঙন ঠেকাতে না পারলে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।’

মোগলহাট ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের বাসিন্দা বাহার উদ্দিন (৫৫) মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কয়েক দিন আগে চোখের সামনেই বসতভিটা ধরলা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তিনি অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। তিস্তাপারের অলিমা খাতুন (৪৫) আহাজারি করে বলেন, ‘সব নদীত ভাঙিয়া গেইছে। আমরা কোথায় যাব, কী খাব? সব নদী ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে।’ অপর এক ভুক্তভোগী তসর উদ্দিন (৫০) জানান, ‘নদীর মাঝখানে আমার বাড়ি ছিল। বাড়ি ভাঙতে ভাঙতে আজ যেখানে বাড়ি দেখতেছেন, তার পাশ পর্যন্ত ভাঙন আসছে। আমার বাড়িটা যেকোনো সময় ভাঙতে পারে।’