ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

হাঁটুপানি পেরিয়ে স্কুলে যাতায়াত, কিশোরগঞ্জের হোসেন্দী আতকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ১২৪ নং হোসেন্দী আতকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত দুদিনের টানা বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই পানি মাড়িয়েই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছেন, যা এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সীমাহীন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী এবং পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। এই জলমগ্নতা পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনেক অভিভাবককে তাদের শিশু শিক্ষার্থীদের কাঁধে বা কোলে করে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটুপানি। ছোট বাচ্চারা এই পানি দিয়ে স্কুলে যেতে পারবে না। তাই বাধ্য হয়ে তাকে কাঁধে করে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছি।’

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. মিনহাজ উদ্দিন জানান, বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষক মো. আল-আমিন বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন যাবৎ যাতায়াতের কোনো রাস্তা ছিল না। গত অর্থবছরে স্থানীয় ইদ্রিস আলীর বাড়ির আঙিনা ব্যবহার করে একটি সংকীর্ণ রাস্তা ইউএনও-র সহায়তায় তৈরি করা হলেও নিচু হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই সেটি তলিয়ে যায়। তাছাড়া, স্কুলের ভৌগোলিক অবস্থান নিচু হওয়ার কারণে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। আশপাশের ফসলি জমি তলিয়ে থাকায় স্কুলের আঙিনার পানি সহজে সরতে পারে না। অনেকবার মাঠে মাটি ভরাটের আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবেদন হোসেন জানান, সারা উপজেলার যেসব স্কুলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, সেসব স্কুলে মাটি ভরাটের জন্য তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, ওই বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতার বিষয়টি তার জানা ছিল না। জানা থাকলে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হতো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিফা সভাপতি ও রেফারির বিরুদ্ধে থানায় নোয়াখালীর যুবকের আজব অভিযোগ

হাঁটুপানি পেরিয়ে স্কুলে যাতায়াত, কিশোরগঞ্জের হোসেন্দী আতকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০১:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ১২৪ নং হোসেন্দী আতকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত দুদিনের টানা বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই পানি মাড়িয়েই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছেন, যা এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সীমাহীন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী এবং পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। এই জলমগ্নতা পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনেক অভিভাবককে তাদের শিশু শিক্ষার্থীদের কাঁধে বা কোলে করে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটুপানি। ছোট বাচ্চারা এই পানি দিয়ে স্কুলে যেতে পারবে না। তাই বাধ্য হয়ে তাকে কাঁধে করে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছি।’

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. মিনহাজ উদ্দিন জানান, বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষক মো. আল-আমিন বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন যাবৎ যাতায়াতের কোনো রাস্তা ছিল না। গত অর্থবছরে স্থানীয় ইদ্রিস আলীর বাড়ির আঙিনা ব্যবহার করে একটি সংকীর্ণ রাস্তা ইউএনও-র সহায়তায় তৈরি করা হলেও নিচু হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই সেটি তলিয়ে যায়। তাছাড়া, স্কুলের ভৌগোলিক অবস্থান নিচু হওয়ার কারণে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। আশপাশের ফসলি জমি তলিয়ে থাকায় স্কুলের আঙিনার পানি সহজে সরতে পারে না। অনেকবার মাঠে মাটি ভরাটের আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবেদন হোসেন জানান, সারা উপজেলার যেসব স্কুলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, সেসব স্কুলে মাটি ভরাটের জন্য তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, ওই বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতার বিষয়টি তার জানা ছিল না। জানা থাকলে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হতো।