বাংলাদেশে বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এবারের ডেঙ্গুর ধরন আগের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। আগে তীব্র জ্বরের লক্ষণ থাকলেও এখন অনেক রোগীর ক্ষেত্রে সামান্য জ্বর বা শুধু জ্বর-জ্বর ভাব দেখা দিচ্ছে। এই ছদ্মবেশী লক্ষণের কারণে রোগীরা শুরুতে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, যা পরবর্তীতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এমনকি মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার তিন থেকে সাত দিনের মাথায় যখন জ্বর কমে আসে, তখন সেই সময়টিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ বা বিপজ্জনক সময় বলা হয়। এই সময়েই রক্তনালি থেকে প্লাজমা ক্ষরণ, অভ্যন্তরীণ রক্তপাত এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই জ্বর কমে গেলেই রোগীকে বিপদমুক্ত মনে করা যাবে না। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাতের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতাই একমাত্র কার্যকর পথ। এডিস মশার প্রজনন রোধে বাসার আঙিনা, ফুলের টব বা যেকোনো জায়গায় জমে থাকা স্বচ্ছ পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরা জরুরি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যা অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























