ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

বাকপ্রতিবন্ধকতা ও কথা বলার জড়তা: লক্ষণ ও সচেতনতা

মানুষের মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হলো কথা বলা। কিন্তু আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে বা শব্দ উচ্চারণ করতে সমস্যার সম্মুখীন হন। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বাকপ্রতিবন্ধকতা বা স্পিচ ডিজঅর্ডার বলা হয়। এটি শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক যেকোনো বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই হতে পারে। তবে সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করলে এই সমস্যায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

বাকপ্রতিবন্ধকতার বিভিন্ন ধরন রয়েছে, যার মধ্যে তোতলামি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি কথা বলার সময় একই শব্দ বারবার বলেন বা কথা বলতে বলতে হঠাৎ আটকে যান। এছাড়া ‘অ্যাপ্রাক্সিয়া’ নামক সমস্যায় মস্তিষ্ক মুখ বা জিহ্বাকে সঠিক নির্দেশ দিতে পারে না, ফলে কথা বলার আগে ঠোঁট-চোয়াল অস্বাভাবিকভাবে নাড়ানো বা উচ্চারণে ভুল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। অন্যদিকে, মুখ বা শ্বাসনালীর পেশি দুর্বল হয়ে গেলে ‘ডিসারথ্রিয়া’ দেখা দেয়, যার ফলে কথা জড়িয়ে যায় বা ব্যক্তি খুব অস্পষ্টভাবে কথা বলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কথা বলার সময় বারবার চোখের পলক ফেলা, শব্দ অস্বাভাবিকভাবে টেনে উচ্চারণ করা, জিহ্বা নাড়াতে অসুবিধা হওয়া বা কর্কশ কণ্ঠে কথা বলা বাকপ্রতিবন্ধকতার প্রাথমিক লক্ষণ। যদি কারও মধ্যে এ ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, তবে বিলম্ব না করে স্পিচ থেরাপিস্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক যত্ন এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিকভাবে কথা বলার সক্ষমতা ফিরে পেতে পারেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে মার্কিন হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরলেন ন্যাটো মহাসচিব

বাকপ্রতিবন্ধকতা ও কথা বলার জড়তা: লক্ষণ ও সচেতনতা

আপডেট সময় : ১১:০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

মানুষের মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হলো কথা বলা। কিন্তু আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে বা শব্দ উচ্চারণ করতে সমস্যার সম্মুখীন হন। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বাকপ্রতিবন্ধকতা বা স্পিচ ডিজঅর্ডার বলা হয়। এটি শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক যেকোনো বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই হতে পারে। তবে সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করলে এই সমস্যায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

বাকপ্রতিবন্ধকতার বিভিন্ন ধরন রয়েছে, যার মধ্যে তোতলামি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি কথা বলার সময় একই শব্দ বারবার বলেন বা কথা বলতে বলতে হঠাৎ আটকে যান। এছাড়া ‘অ্যাপ্রাক্সিয়া’ নামক সমস্যায় মস্তিষ্ক মুখ বা জিহ্বাকে সঠিক নির্দেশ দিতে পারে না, ফলে কথা বলার আগে ঠোঁট-চোয়াল অস্বাভাবিকভাবে নাড়ানো বা উচ্চারণে ভুল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। অন্যদিকে, মুখ বা শ্বাসনালীর পেশি দুর্বল হয়ে গেলে ‘ডিসারথ্রিয়া’ দেখা দেয়, যার ফলে কথা জড়িয়ে যায় বা ব্যক্তি খুব অস্পষ্টভাবে কথা বলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কথা বলার সময় বারবার চোখের পলক ফেলা, শব্দ অস্বাভাবিকভাবে টেনে উচ্চারণ করা, জিহ্বা নাড়াতে অসুবিধা হওয়া বা কর্কশ কণ্ঠে কথা বলা বাকপ্রতিবন্ধকতার প্রাথমিক লক্ষণ। যদি কারও মধ্যে এ ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, তবে বিলম্ব না করে স্পিচ থেরাপিস্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক যত্ন এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিকভাবে কথা বলার সক্ষমতা ফিরে পেতে পারেন।