ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

মধুপুরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি, কোটি টাকার দুর্নীতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন কমিউনিটিভিত্তিক পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি, বরং ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দেড় কোটি টাকার এই প্রকল্পে ঠিকাদারকে কাজ শেষ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে, যার ফলে ঠিকাদার লাপাত্তা এবং প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে মধুপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১০ বাড়ি বিস্তৃত কমিউনিটিভিত্তিক ১৮টি সাবমার্সিবল পাম্প ও গভীর নলকূপ স্থাপন এবং পাইপলাইন বসানোর জন্য এক কোটি ৪৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৩৯ টাকা ৯০ পয়সা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় ১৮টি গভীর নলকূপ বসানো হলেও বছরের পর বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে এর পাইপগুলো। কিছু জায়গায় সাবমার্সিবল মোটর লাগানো হলেও তা নষ্ট হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া, বাড়ি বাড়ি পানি সরবরাহের জন্য পাইপলাইন লাগানো এবং পানির ট্যাংক বসানোর কাজ শুরুই হয়নি।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, এই দপ্তর যেন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কাজ শেষ করার আগেই বিল উত্তোলন করে ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় সরকারের প্রায় দেড় কোটি টাকা গচ্চা যেতে বসেছে। উপজেলার আউশনারা, মহিষমারা, কুড়ালিয়া, আলোকদিয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নের প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে কমিউনিটিভিত্তিক ১০ বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য সাবমার্সিবল মোটর, পানির ট্যাংক, ট্যাংক বসানোর জন্য পিলার নির্মাণ, ১০ বাড়িতে পাইপলাইন টানা, কল বসানো এবং কল ও পাম্প স্থাপনের জায়গা পাকাকরণের কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১৮টি পাইপ বোরিং ও পাঁচটি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। এর বিপরীতেই ৬০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

অপরদিকে, ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ভাইঘাট বাজার ও সূত্রধরপাড়া এলাকায় নির্ধারিত ১০টি পরিবারের পরিবর্তে মাত্র কয়েকটি পরিবার পানি ব্যবহার করতে পারছে। একই ভাবে যদুনাথপুর ইউনিয়নের প্রকল্পেও ১০টি পরিবারের বদলে একটি মসজিদ ও একটি মাজারে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, শোলাকুড়ি বাজারের পাশে সোলায়মানের বাড়ি এবং আলোকদিয়া ইউনিয়নের শাহজাদা হোসেন খান মানিকের বাড়িতে নতুন করে পানির ট্যাংকের কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক আইজিপি বেনজীরকে দেশে ফেরানো নিয়ে অনিশ্চয়তা: দুবাই পুলিশের সাড়া নেই

মধুপুরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি, কোটি টাকার দুর্নীতি

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন কমিউনিটিভিত্তিক পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি, বরং ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দেড় কোটি টাকার এই প্রকল্পে ঠিকাদারকে কাজ শেষ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে, যার ফলে ঠিকাদার লাপাত্তা এবং প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে মধুপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১০ বাড়ি বিস্তৃত কমিউনিটিভিত্তিক ১৮টি সাবমার্সিবল পাম্প ও গভীর নলকূপ স্থাপন এবং পাইপলাইন বসানোর জন্য এক কোটি ৪৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৩৯ টাকা ৯০ পয়সা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় ১৮টি গভীর নলকূপ বসানো হলেও বছরের পর বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে এর পাইপগুলো। কিছু জায়গায় সাবমার্সিবল মোটর লাগানো হলেও তা নষ্ট হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া, বাড়ি বাড়ি পানি সরবরাহের জন্য পাইপলাইন লাগানো এবং পানির ট্যাংক বসানোর কাজ শুরুই হয়নি।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, এই দপ্তর যেন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কাজ শেষ করার আগেই বিল উত্তোলন করে ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় সরকারের প্রায় দেড় কোটি টাকা গচ্চা যেতে বসেছে। উপজেলার আউশনারা, মহিষমারা, কুড়ালিয়া, আলোকদিয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নের প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে কমিউনিটিভিত্তিক ১০ বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য সাবমার্সিবল মোটর, পানির ট্যাংক, ট্যাংক বসানোর জন্য পিলার নির্মাণ, ১০ বাড়িতে পাইপলাইন টানা, কল বসানো এবং কল ও পাম্প স্থাপনের জায়গা পাকাকরণের কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১৮টি পাইপ বোরিং ও পাঁচটি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। এর বিপরীতেই ৬০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

অপরদিকে, ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ভাইঘাট বাজার ও সূত্রধরপাড়া এলাকায় নির্ধারিত ১০টি পরিবারের পরিবর্তে মাত্র কয়েকটি পরিবার পানি ব্যবহার করতে পারছে। একই ভাবে যদুনাথপুর ইউনিয়নের প্রকল্পেও ১০টি পরিবারের বদলে একটি মসজিদ ও একটি মাজারে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, শোলাকুড়ি বাজারের পাশে সোলায়মানের বাড়ি এবং আলোকদিয়া ইউনিয়নের শাহজাদা হোসেন খান মানিকের বাড়িতে নতুন করে পানির ট্যাংকের কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।