ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

গাজায় চিকিৎসা সংকট: ‘ইসরায়েল চালাচ্ছে স্বাস্থ্য গণহত্যা’, দাবি ফিলিস্তিনি চিকিৎসকের

গাজার স্বাস্থ্য খাতের ওপর ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণে ফিলিস্তিনিরা এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের মুখে পড়েছে। খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. আহমেদ আল-ফারা আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিস্থিতিকে ‘স্বাস্থ্য গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ইসরায়েল গাজায় স্বাস্থ্য খাতের ওপর হামলা চালিয়ে হাসপাতালগুলোকে কংক্রিটের খোলসে পরিণত করার চেষ্টা করছে, যা অচল, চিকিৎসা সামগ্রীশূন্য এবং ডাক্তারশূন্য হয়ে পড়ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় প্রায় ২১ হাজার ফিলিস্তিনির চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার কথা ছিল। এদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন ছিল এবং চুক্তিতে প্রত্যেকের সঙ্গে দুইজন করে সহযাত্রী নেওয়ার অনুমতিও উল্লেখ ছিল।

তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৭ হাজারেরও কম মানুষ গাজা ছাড়তে পেরেছেন, যা চুক্তির মাত্র ৩৬ শতাংশ বাস্তবায়ন। আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি তারেক আবু আজুম জানিয়েছেন, জরুরিভাবে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ছাড়পত্র পাওয়া হাজার হাজার মানুষ এখনও গাজায় আটকা পড়ে আছেন এবং তাদের অনেকেই বাঁচবেন না।

ডা. আল-ফারা আরও বলেন, “যুদ্ধবিরতির পর আমরা ভেবেছিলাম সবকিছু বদলে যাবে। কিন্তু গত এক হাজার দিনের মধ্যে এই সময়টাই সবচেয়ে ভয়াবহ। আমরা আশা করেছিলাম পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশ করবে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েল শুধু স্বাস্থ্য খাতের ওপর হামলা চালাচ্ছে না, বরং হাসপাতালগুলোকে কার্যকরহীন করে ফিলিস্তিনিদের মৌলিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা রহস্য উন্মোচন: ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঢুকে খুন, ভাগ্নে গ্রেপ্তার

গাজায় চিকিৎসা সংকট: ‘ইসরায়েল চালাচ্ছে স্বাস্থ্য গণহত্যা’, দাবি ফিলিস্তিনি চিকিৎসকের

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

গাজার স্বাস্থ্য খাতের ওপর ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণে ফিলিস্তিনিরা এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের মুখে পড়েছে। খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. আহমেদ আল-ফারা আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিস্থিতিকে ‘স্বাস্থ্য গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ইসরায়েল গাজায় স্বাস্থ্য খাতের ওপর হামলা চালিয়ে হাসপাতালগুলোকে কংক্রিটের খোলসে পরিণত করার চেষ্টা করছে, যা অচল, চিকিৎসা সামগ্রীশূন্য এবং ডাক্তারশূন্য হয়ে পড়ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় প্রায় ২১ হাজার ফিলিস্তিনির চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার কথা ছিল। এদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন ছিল এবং চুক্তিতে প্রত্যেকের সঙ্গে দুইজন করে সহযাত্রী নেওয়ার অনুমতিও উল্লেখ ছিল।

তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৭ হাজারেরও কম মানুষ গাজা ছাড়তে পেরেছেন, যা চুক্তির মাত্র ৩৬ শতাংশ বাস্তবায়ন। আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি তারেক আবু আজুম জানিয়েছেন, জরুরিভাবে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ছাড়পত্র পাওয়া হাজার হাজার মানুষ এখনও গাজায় আটকা পড়ে আছেন এবং তাদের অনেকেই বাঁচবেন না।

ডা. আল-ফারা আরও বলেন, “যুদ্ধবিরতির পর আমরা ভেবেছিলাম সবকিছু বদলে যাবে। কিন্তু গত এক হাজার দিনের মধ্যে এই সময়টাই সবচেয়ে ভয়াবহ। আমরা আশা করেছিলাম পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশ করবে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েল শুধু স্বাস্থ্য খাতের ওপর হামলা চালাচ্ছে না, বরং হাসপাতালগুলোকে কার্যকরহীন করে ফিলিস্তিনিদের মৌলিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।