ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর নিখোঁজদের খোঁজে হাহাকার: কারাকাসের হাসপাতালের দেয়ালজুড়ে স্বজনদের ছবি

ভয়াবহ ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এখন স্বজন হারানোর বেদনা আর নিখোঁজদের খোঁজের হাহাকার। মিগুয়েল পেরেজ কারেনো হাসপাতালের বাইরের দেয়ালজুড়ে টাঙানো হচ্ছে হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের ছবি। প্রিয়জনদের সন্ধানে মরিয়া স্বজনরা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, এমনটাই জানাচ্ছে বিবিসি।

প্রতি ঘণ্টায় নতুন নতুন মানুষ নিখোঁজ স্বজনদের ছবি-সংবলিত লিফলেট নিয়ে এসে হাসপাতালের দেয়ালে সাঁটিয়ে দিচ্ছেন। নিখোঁজদের মধ্যে উপকূলীয় এলাকা লা গুয়াইরার বহু বাসিন্দা রয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ভূমিকম্প থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাওয়া ইয়েরিঙ্কের বারমুদেজ জানান, তিনি যখন নিজের ভবনে প্রবেশ করছিলেন, ঠিক তখনই সেটি ধসে পড়ে। আহত অবস্থায় লাঠির সাহায্যে চলাফেরা করা বারমুদেজ এখন সেই ভবনে বসবাসকারী বন্ধুদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন। সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পুলিশ বা সরকার আমাদের কোনো সহায়তা করেনি। প্রতিবেশী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে আমরা নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত ও নিহতদের বের করেছি। খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে উদ্ধারকাজ চালিয়েছি।”

হাসপাতালের বাইরে অসংখ্য মানুষ ভর্তি রোগীদের তালিকায় পরিচিত কোনো নাম খুঁজে পাওয়ার আশায় অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। হাসপাতালের ভেতরেও পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত চাপের। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সান্তিয়াগো কাসানোভা বলেন, প্রথম কয়েক দিন অত্যন্ত কঠিন ছিল। তবে এখন আহতের সংখ্যা কিছুটা কমে আসায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে।

তবে তিনি জানান, আহত রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়া ইতিবাচক নয়, বরং এটি একটি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত। সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের সম্ভাবনাও তত কমে আসছে, যা স্বজনদের মনে আরও গভীর হতাশা তৈরি করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের চিরবিদায়, প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর নিখোঁজদের খোঁজে হাহাকার: কারাকাসের হাসপাতালের দেয়ালজুড়ে স্বজনদের ছবি

আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ভয়াবহ ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এখন স্বজন হারানোর বেদনা আর নিখোঁজদের খোঁজের হাহাকার। মিগুয়েল পেরেজ কারেনো হাসপাতালের বাইরের দেয়ালজুড়ে টাঙানো হচ্ছে হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের ছবি। প্রিয়জনদের সন্ধানে মরিয়া স্বজনরা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, এমনটাই জানাচ্ছে বিবিসি।

প্রতি ঘণ্টায় নতুন নতুন মানুষ নিখোঁজ স্বজনদের ছবি-সংবলিত লিফলেট নিয়ে এসে হাসপাতালের দেয়ালে সাঁটিয়ে দিচ্ছেন। নিখোঁজদের মধ্যে উপকূলীয় এলাকা লা গুয়াইরার বহু বাসিন্দা রয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ভূমিকম্প থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাওয়া ইয়েরিঙ্কের বারমুদেজ জানান, তিনি যখন নিজের ভবনে প্রবেশ করছিলেন, ঠিক তখনই সেটি ধসে পড়ে। আহত অবস্থায় লাঠির সাহায্যে চলাফেরা করা বারমুদেজ এখন সেই ভবনে বসবাসকারী বন্ধুদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন। সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পুলিশ বা সরকার আমাদের কোনো সহায়তা করেনি। প্রতিবেশী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে আমরা নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত ও নিহতদের বের করেছি। খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে উদ্ধারকাজ চালিয়েছি।”

হাসপাতালের বাইরে অসংখ্য মানুষ ভর্তি রোগীদের তালিকায় পরিচিত কোনো নাম খুঁজে পাওয়ার আশায় অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। হাসপাতালের ভেতরেও পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত চাপের। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সান্তিয়াগো কাসানোভা বলেন, প্রথম কয়েক দিন অত্যন্ত কঠিন ছিল। তবে এখন আহতের সংখ্যা কিছুটা কমে আসায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে।

তবে তিনি জানান, আহত রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়া ইতিবাচক নয়, বরং এটি একটি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত। সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের সম্ভাবনাও তত কমে আসছে, যা স্বজনদের মনে আরও গভীর হতাশা তৈরি করছে।