ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিধবা চা দোকানির টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্ত ছাত্রনেতা উধাও

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ আনাস হল এলাকায় এক বিধবা চা দোকানির কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ। সম্প্রতি এই বিধবা দোকানির কান্নাজড়িত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।

ভুক্তভোগী ওই নারী শহীদ আনাস হলের সামনের লিচু বাগানে একটি চায়ের দোকান চালান। অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের কারণে বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ ক্যাম্পাসে ইতোমধ্যেই একজন বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং ভুক্তভোগীর বক্তব্য সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের সময় বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ একদিনের জন্য ওই দোকানির কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নেন। দোকানিকে তিনি তার বন্ধ হয়ে যাওয়া চায়ের দোকান পুনরায় খুলে দিতে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর একাধিকবার টাকা ফেরত দেওয়ার তারিখ পরিবর্তন করা হলেও এখন পর্যন্ত তা পরিশোধ করা হয়নি। সর্বশেষ গত ২০ জুন টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও, আজ পর্যন্ত তিনি কোনো টাকা দেননি। এছাড়া, দোকানের ২৩০ টাকার নাস্তার বিলও বকেয়া রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী দোকানি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী দোকানি ভিডিওতে অভিযোগ করে বলেন, “বাঁধন আমার কাছ থেকে ৫,০০০ টাকা হাওলাত (ধার) নিয়েছে, আমার দোকান খোলার বাবদে। আমার যে কোনো কারণবশত আমার দোকানটা বন্ধ হয়েছিল, ও খুলে দিয়েছিল। তাই বলে আমার এতো বড় ক্ষতি করবে বলেন? ও বলেছে, খালা আমি আপনার উপকার করেছি, আমারও একটু উপকার করেন। তাই বলে ৫,০০০ টাকা হাওলাত নিয়ে আজ দেয় কাল দেয়, দেয় না। ২০ তারিখে দেওয়ার কথা ছিল, আজ ২৫ তারিখ, একটা টাকাও দেয়নি। তারপরে দোকান বিল ২৩০ টাকা, তাও আমারে দেয় নাই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের কী দিয়ে কী খাওয়াব? আমি তো গরিব মানুষ। টাকা না দিলে কীভাবে দোকান চালাব? আজ আমার স্বামী বেঁচে থাকলে আমাকে এই কষ্ট করতে হতো না। কোনো কারণে দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ও আবার খুলে দিতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু পরে এভাবে আমার এত বড় ক্ষতি করবেন, সেটা আমি ভাবিনি। আমি আপনাদের কী বলবো, আমার দোকানে তো ৫,০০০ টাকার মালই থাকে না। আমি অনেক মামাদের জানাইছি তারা বলছে খালা, আমরা তো ওর সঙ্গে পারি না, আপনি প্রক্টর স্যারের সাথে কথা বলেন।”

এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্য সচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা রহস্য উন্মোচন: ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঢুকে খুন, ভাগ্নে গ্রেপ্তার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিধবা চা দোকানির টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্ত ছাত্রনেতা উধাও

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ আনাস হল এলাকায় এক বিধবা চা দোকানির কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ। সম্প্রতি এই বিধবা দোকানির কান্নাজড়িত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।

ভুক্তভোগী ওই নারী শহীদ আনাস হলের সামনের লিচু বাগানে একটি চায়ের দোকান চালান। অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের কারণে বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ ক্যাম্পাসে ইতোমধ্যেই একজন বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং ভুক্তভোগীর বক্তব্য সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের সময় বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ একদিনের জন্য ওই দোকানির কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নেন। দোকানিকে তিনি তার বন্ধ হয়ে যাওয়া চায়ের দোকান পুনরায় খুলে দিতে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর একাধিকবার টাকা ফেরত দেওয়ার তারিখ পরিবর্তন করা হলেও এখন পর্যন্ত তা পরিশোধ করা হয়নি। সর্বশেষ গত ২০ জুন টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও, আজ পর্যন্ত তিনি কোনো টাকা দেননি। এছাড়া, দোকানের ২৩০ টাকার নাস্তার বিলও বকেয়া রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী দোকানি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী দোকানি ভিডিওতে অভিযোগ করে বলেন, “বাঁধন আমার কাছ থেকে ৫,০০০ টাকা হাওলাত (ধার) নিয়েছে, আমার দোকান খোলার বাবদে। আমার যে কোনো কারণবশত আমার দোকানটা বন্ধ হয়েছিল, ও খুলে দিয়েছিল। তাই বলে আমার এতো বড় ক্ষতি করবে বলেন? ও বলেছে, খালা আমি আপনার উপকার করেছি, আমারও একটু উপকার করেন। তাই বলে ৫,০০০ টাকা হাওলাত নিয়ে আজ দেয় কাল দেয়, দেয় না। ২০ তারিখে দেওয়ার কথা ছিল, আজ ২৫ তারিখ, একটা টাকাও দেয়নি। তারপরে দোকান বিল ২৩০ টাকা, তাও আমারে দেয় নাই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের কী দিয়ে কী খাওয়াব? আমি তো গরিব মানুষ। টাকা না দিলে কীভাবে দোকান চালাব? আজ আমার স্বামী বেঁচে থাকলে আমাকে এই কষ্ট করতে হতো না। কোনো কারণে দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ও আবার খুলে দিতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু পরে এভাবে আমার এত বড় ক্ষতি করবেন, সেটা আমি ভাবিনি। আমি আপনাদের কী বলবো, আমার দোকানে তো ৫,০০০ টাকার মালই থাকে না। আমি অনেক মামাদের জানাইছি তারা বলছে খালা, আমরা তো ওর সঙ্গে পারি না, আপনি প্রক্টর স্যারের সাথে কথা বলেন।”

এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্য সচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।