গাজীপুরে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম সিনেট অধিবেশনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার মূল বাজেট এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য ৬৬৪ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। শনিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম বাজেট দুটি উপস্থাপন করেন। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত মূল বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ১৩ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা, ফলে ঘাটতি বাজেট ১৮৩ কোটি ৯০ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয় ৬২৫ কোটি ২ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ঘাটতি রয়েছে ৩৯ কোটি ৫ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা।
ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রবর্তনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ১৫০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম চালুর মাধ্যমে ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউটের (এমএলএলআই) মাধ্যমে মান্দারিন, জাপানিজ, কোরিয়ান, অ্যারাবিক, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ ও ফ্রেঞ্চ ভাষা শেখানো হচ্ছে। এছাড়াও দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, গ্রিন ক্যাম্পাস তৈরির উদ্যোগ, ৪০ লক্ষ শিক্ষার্থীর মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে ২ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ, স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি ও আইসিটি কোর্স বাধ্যতামূলক করা, সিলেবাস সংস্কার এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আধুনিকীকরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান উপাচার্য। নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা সম্প্রসারণে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























