দেশের ব্যাংকিং খাত সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১২ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। শনিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৬তম দিনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এমপি মিলন বলেন, ব্যাংকিং খাতের ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ, সরকারের ঋণের বোঝা, রাজস্ব ঘাটতি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্বলতা, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, চাঁদাবাজি এবং রাজধানীর নাগরিক সমস্যাগুলো দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনক এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ৩০.১৭ শতাংশে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।
তিনি আরও জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণের স্থিতি প্রায় ১৩ হাজার ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকার সমান। আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল বাবদ প্রায় ৬৪ থেকে ৭২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, পরিচালন ব্যয় কমানো, রাষ্ট্রীয় লোকসানি প্রতিষ্ঠান পুনর্মূল্যায়ন, ক্যাপাসিটি চার্জ ও ব্যাংক খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর জোর দেন এমপি মিলন। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও পূর্ববর্তী বছরের আদায়ের সঙ্গে তুলনা করলে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে, যা কার্যকর বাজেট ঘাটতিকে প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকায় নিয়ে যেতে পারে। অধিবেশন চলাকালে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























