রাজধানী ঢাকার দুই হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাসে মোগল শাসনকাল এক অনন্য অধ্যায়। ১৬১০ সালে সুবাহদার ইসলাম খান চিশতির হাত ধরে ঢাকা যখন বাংলার রাজধানী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তখন থেকেই এই জনপদে নতুন নতুন সংস্কৃতি ও ধর্মীয় রীতিনীতির সংমিশ্রণ শুরু হয়। এর আগে সোনারগাঁ ছিল বাংলার ক্ষমতার কেন্দ্র, যেখানে ঈসা খাঁ ও তাঁর পুত্র মুসা খাঁ শাসন পরিচালনা করতেন। ইসলাম খান চিশতির ঢাকা আগমনের পর মুসা খাঁ কার্জন হল সংলগ্ন এলাকায় তাঁর আবাস গড়ে তোলেন, যেখানে আজও ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদ ও তাঁর সমাধি বিদ্যমান।
ঢাকায় শিয়া প্রভাব এবং আশুরা উদযাপনের শেকড় মূলত মোগল আমলের ইরানি সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত। মোগল সেনাপতি মীর্জা নাথান রচিত ‘বাহারিস্তান-ই-গায়বী’ গ্রন্থে সেই সময়ের বিভিন্ন উৎসবের বর্ণনা পাওয়া যায়। যদিও প্রাচীনকালে নওরোজ বা ইরানি নববর্ষ পালনের তথ্য পাওয়া যায়, তবে ১০ মহররম বা আশুরা উপলক্ষে শোকমিছিল ও মাতমজারির আনুষ্ঠানিক ধারাটি আরও পরে পূর্ণতা পায়।
সম্রাট জাহাঙ্গীর ও পরবর্তী মোগল সম্রাটদের আমলে প্রশাসনিক প্রয়োজনে বহু ইরানি ও শিয়া মতাবলম্বী কর্মকর্তা ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। তাঁদের মাধ্যমেই মূলত মহররমের শোকাবহ আচার-অনুষ্ঠানগুলো ঢাকার জনজীবনে মিশে যায়। ঢাকার বিবর্তন এবং এই অঞ্চলের ধর্মীয় ঐতিহ্যের বিকাশে মোগল রাজধানী স্থাপনের ঘটনাটি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























